প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ পিএম (ভিজিট : ৪২)

X
ত্রাণ বিতরণ
উজানের ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের উজিরপুর ও ভাঙ্গারহাট এলাকায় দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় লোকালয়ে দ্রুত পানি ঢুকে পড়েছে। পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী ওরফে আশাই মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে মনু ও ধলাই নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও ভাঙ্গারহাট এলাকায় মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় দ্রুত নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়।
এদিকে পানির প্রবল স্রোতে বৃহস্পতিবার আকুয়া গ্রামের আশাই মিয়া ভেসে যান। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন।
বন্যার পানিতে টেংরা, কামারচাক, মনসুরনগর ও রাজনগর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী ৩০টিরও বেশি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র এবং বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও চালু করা হয়েছে।
বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় প্রাথমিকভাবে ২০ টন চাল, দেড় লাখ টাকা এবং ২১০ বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার তাৎক্ষণিকভাবে ৯০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।
অন্যদিকে, কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশার টুপিরমহল এলাকায় মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধের ভেতরের বহু বাড়িঘর ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচিব ড. একেএম শাহাব উদ্দীন এবং মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের পানির কারণে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপেই দুর্বল অংশে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানি নেমে গেলে ভাঙা বাঁধ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।