প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম (ভিজিট : ২৮)

X
সংগৃহীত ছবি
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ও পরীক্ষাকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে রাতে চরফ্যাশন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (চরফ্যাশন সার্কেল) মো. মেহেদী হাসান বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শনিবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে একটি কক্ষের পরীক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাদের প্রশ্ন কমন পড়েনি।
এজাহারে বলা হয়, এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কয়েকজন পরীক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা বাধা দেন। এতে পরীক্ষার্থীরা নকলের সুযোগ দাবি করে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টার দিকে একদল পরীক্ষার্থী ও বহিরাগত ব্যক্তি কলেজের পকেট গেট ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী সাতজন শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আহত হন। একই সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ করে এবং দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।