প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম (ভিজিট : ২৭)

X
ছবি: প্রতিনিধি
আশুলিয়ায় সুদের টাকার জন্য বাসা থেকে ধরে নিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে এলোপাতাড়ি মারধর সহ ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবীর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার বিকাল ৬টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর অন্ধকলোনীর বর্ষণ রেষ্টুরেন্টে নামে একটি হোটেলের পিছনে পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে তাকে মারধর করে। পরে এঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী খাইরুল নেত্রকোনা জেলার পূর্বদলা থানার কাচিয়াকান্দা গ্রামের আবদুল বারেকের ছেলে। সে আশুলিয়ার নরসিংহপুর অন্ধকলোনী এলাকার আব্দুল খালেকের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় শারমিন গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর পদে কাজ করেন।
ভুক্তভোগী গার্মেন্টস কর্মী খাইরুল জানান, যুবলীগ নেতা গৌরঙ্গ বাবুর জামাই লিটন দাস দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মুদির দোকানের আড়ালে সুদের ব্যবসা করে আসছে। আমি তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেই। মুল টাকার ১৫ হাজার সহ ২৫ হাজার টাকা লাভ দেই। মুল টাকার ৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা বেতন পেলে দিবো বলে তাকে জানাই। এতে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে সে এবং তার ছেলে বর্ষণ সহ ৪ থেকে ৫ জন মিলে আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে রেষ্টুরেন্টেের পিছনে যায়। এবং আমার হাত বেঁধে মারধর করে। এসময়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। এরপরে আমার জীবন বাঁচাতে পায়ের বাধন কোনমতে খুলে দৌড়ে মনিরের দোকানের সামনে আসি। সেখানেও তারা এসে আমাকে মারধর করে। পরে আমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এঘটনায় আমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শাস্তির দাবী জানাই।
মুদির দোকানি মনিরের স্ত্রী আসমা বেগম জানান, অভিযুক্ত খাইরুল বাঁচাও বাঁচাও বলতে বলতে আমার দোকানের সামনে পড়ে যায়। এরপরে ৪ থেকে ৫ জন এসে তাকে মারধর করতে থাকে। পরে আমরা বাঁধা দিলে তারা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা বলেন, গৌরাঙ্গের জামাই লিটন মুদির দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের লাভে সুদের টাকা ব্যবসা করে। অসহায় গার্মেন্টস কর্মী সহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টাকা নিলে তার কাছে জিম্মি হয়ে যায়। এরপরে কেউ টাকা না দিতে পারলে হোটেলের পিছনে পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে মারধর করে। এছাড়া তার ছেলে বর্ষণের নেতৃত্বে ওই জায়গায় চলে মাদকের আড্ডা। এই জায়গার জনসাধারণ তাদের অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। কেউ ভয়ে কোন কথা বলতে পারে নাই। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।
অভিযুক্ত লিটন গণমাধ্যম কর্মীদের ক্যামেরা দেখে তড়িঘড়ি করে দোকান বন্ধ করে ঘটনাস্থল থেকে সঁটকে পড়ে। পরে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বলেন,
এবিষয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুদীপ্ত বলেন, থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।