যদিও বোর্ডগুলো বলছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা পরীক্ষা স্থগিত রাখার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে। তবে স্থানীয় প্রশাসন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত স্থানীয় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হলেও বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা সুপারিশ পাঠানো হয়নি। ফলে সেসব এলাকাতেও নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে এমন লেজেগোবরে অবস্থার জন্য একে অন্যকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন শিক্ষা বোর্ডের হর্তাকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্তঃশিক্ষা শিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা রাত পর্যন্ত চিন্তাভাবনা করেছি পরীক্ষা স্থগিত করার। কিন্তু জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের থেকে আমরা সাড়া পাইনি, তারা পরীক্ষা নিতে পারবে বলে রীতিমতো চাপ দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের সিদ্ধান্ত দিতে হয়। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়ায় এখন সমালোচনা হচ্ছে।’
এরই মধ্যে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দেশের বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র ভোগান্তির শিকার হওয়ার তথ্য এসেছে। তাদেরকে হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে কিংবা নৌকায় কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে। দেশের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টিতে ভিজে কেন্দ্রে যেতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি তুলেছেন শিক্ষাবিদসহ অনেক অভিভাবক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডকে কোনো প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি বলেন, পরীক্ষা স্থগিত বা কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ডের। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সদর উপজেলার সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রটি সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়েছে। তবে সেটি অন্যত্র সরানো হবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ইউএনও আরও বলেন, গতকাল পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এমন কোনো লিখিত প্রতিবেদন ছিল না। ভোর ৪টার পর থেকে বৃষ্টির কারণে আজ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখন বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।
আন্তঃশিক্ষা শিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকটি জেলার পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার তথ্য আমরা পেয়েছি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কোথায় কী পরিস্থিতি রয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে রাতের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকায় নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন হলে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’