
X
হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলাম
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
এদিকে, হরিদাসের বিরুদ্ধে নিজেকে কখনও প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দেওয়া, আবার কখনও সম্পাদিত ছবি ও ভুয়া ফোনকল ব্যবহার করে বিভিন্ন মহলে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সিআইডি জানায়, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে তিনি অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে ফেরেন। পরে ২০১৯ সালে ‘ইসলাম ধর্ম’ গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকলও দেখাতেন বলে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
পরে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সিআইডি তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার কোনও বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে। আর এসব লেনদেন সিআইডির কাছে সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন। এটি তার পেশা ও আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অনুসন্ধানে আরও পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় দায়ের করা মামলা নম্বর-১৬(১১)২২-এ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৬৭, ১৬৮, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর ৪(২) ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
হরিদাসের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে হওয়া সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সিআইডি।