
X
প্রধানমন্ত্রীর উপহার
সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে সহায়তার হাত পৌঁছে গেল মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কাছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন-এ ‘একই বাড়ির দুই পরিবারে ১১ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান পাভেল রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামে গিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী দুই পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, সাদাছড়ি ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত এবং বাড়ির কাঁচা সড়ক সংস্কারের আশ্বাস দেন।
জানা যায়, দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের সহোদর কামাল মুন্সি ও লাফুল মিয়ার পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা বয়ে চলেছে। তাদের দাদা ও বাবা ছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। একই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্ম নেন দুই ভাই কামাল মুন্সি ও লাফুল মিয়া। পরবর্তী প্রজন্মেও সেই বংশগত প্রতিবন্ধকতা বহাল রয়েছে।
কামাল মুন্সির পরিবারে তার ছেলে জগলু মিয়া,ফখরুল মিয়া ও সুফি বেগম জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের পরবর্তী প্রজন্মে ফাইজা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং শারমিন ও সোহান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার পাশাপাশি মানসিক প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত। অন্যদিকে লাফুল মিয়া,তার ছেলে সারজক মিয়া,নাতি আকবর আলী এবং নাতনি আনিকা আক্তারও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। এভাবে একই পরিবারের দুই শাখায় মোট ১১ জন সদস্য জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার সঙ্গে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদটি প্রকাশের পর মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান পাভেল রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদারকে সঙ্গে নিয়ে পরিবার দুটির বাড়িতে যান। তিনি তাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও সাদাছড়ি তুলে দেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক জানান,পরিবারটির জন্য বিশেষ চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের বাড়িতে যাওয়ার কাঁচা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে একই গ্রামের দরিদ্র রিবেল মিয়া ও সেলিনা বেগম দম্পতির ঘরেও পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার। সম্প্রতি একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দেন সেলিনা বেগম। সন্তানদের জন্মে আনন্দ এলেও আর্থিক সংকটে তাদের দুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় করা পরিবারটির জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি ওই পরিবারকেও নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী এবং নবজাতকদের জন্য প্রয়োজনীয় দুগ্ধসামগ্রী প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপহারসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল,উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মাসুদ রানা,কামারচাক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ,কামারচাক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন,সংবাদটি প্রকাশের পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর কাছে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়ির রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে জমজ তিন নবজাতকের পরিবারকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে,একটি সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন দ্রুত ও মানবিক সাড়া শুধু দুই অসহায় পরিবারের মুখেই হাসি ফোটায়নি,বরং প্রমাণ করেছে-গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।