
X
ছবি: প্রতিনিধি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশনায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সাম্প্রতিক সময়ে টানা অতিবৃষ্টির কারণে মনোহরদী পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, সড়ক ভাঙন, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নদীভাঙনের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নজরে নেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আলহাজ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
জনদুর্ভোগ লাঘবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহান, নরসিংদী পানি উন্নয়ন বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ূন কবির, উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা, নরসিংদী পানি উন্নয়ন বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে চালাকচর–বড়চাপা সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন, বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামে নদীভাঙনে বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়া, কায়েতেরগাঁও গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, কায়েতেরগাঁও–জামালপুর সড়কের কালভার্ট ভেঙে যাওয়া এবং মনোহরদী গার্লস স্কুল মোড় থেকে ড্রেনেরঘাট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও পরিদর্শন দল নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলা প্রশাসন, নরসিংদী পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও খিদিরপুর ইউনিয়নের প্রশাসক মো. সজীব মিয়া খিদিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, রাস্তা ভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের সমন্বিত উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আলহাজ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের দ্রুত নির্দেশনা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহানের আন্তরিক তৎপরতা দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের জনকল্যাণমুখী ও মানবিক অবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।