ময়মনসিংহ, খুলনা ও পিরোজপুরে হত্যা মামলার রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন-আদালত

ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টু হত্যা, খুলনায় জোড়া খুন ও পিরোজপুরে হত্য মামলায় সংশ্লিষ্ট আদালত ২

2026-07-15T20:09:05+00:00
2026-07-15T20:09:05+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
মৃত্যুদণ্ড ২, যাবজ্জীবন ২০
ময়মনসিংহ, খুলনা ও পিরোজপুরে হত্যা মামলার রায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৯ পিএম   (ভিজিট : ৮০)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টু হত্যা, খুলনায় জোড়া খুন ও পিরোজপুরে হত্য মামলায় সংশ্লিষ্ট আদালত ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ জনকে যাবজ্জীবন সাজার আদেশ দেন।

ময়মনসিংহ: আদালত সূত্রে জানা যায় দীর্ঘ ১২ বছর পর বুধবার ময়মনসিংহের ভালুকায় দলিল লেখক আবু জাকারিয়া মিন্টু হত্যা মামলায় ২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন এবং ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদালত এই মামলার আরও ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। বুধবার ১৫ জুলাই স্পেশাল জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় প্রদান করেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী নছর ভিটা গ্রামের বাসিন্দা মো. ফরিদ খলিফা (৪৮) ও একই গ্রামের মো. মাসুদ মিয়া (৪১)। এর মধ্যে মাসুদ মিয়া পলাতক রয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আব্দুছ ছামাদ ওরফে ছমেদ আলী (৬৮) ও তার ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫), মো. মোসাররফ হোসেন মোসা (৫৮), মো. মোখলেছুর রহমান (৫৩), মো. মোফাজ্জল হোসেন মোসা (৫৮), মো. তোফাজ্জল হোসেন তোফা (৪৮), মো. নাজমুল মিয়া, মো. শাহজাহান আকন্দ (৪৮), মো. আতিকুল (৩৯) এবং মো. সিদ্দিক মিয়া (৬৩)। এর মধ্যে মো. সিদ্দিক মিয়া পলাতক রয়েছেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের নারাঙ্গী নছর ভিটা গ্রামের মিন্টুর সঙ্গে আসামিদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট সকালে আসামিরা দা, কোড়াল, লাঠি, ছোরা, হকিস্টিক, লোহার রড নিয়ে মিন্টুকে ঘিরে ফেলেন। এসময় মিন্টু জীবন রক্ষার্থে দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করলে, তারা তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন নিহত মিন্টুর স্ত্রী বাদী হয়ে ১৬ জনের নামে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয় পক্ষের শুনানির পর, দীর্ঘ ১২ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর নিহতের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাসেদা তাহমিনা প্রীতি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও আদালতের এ রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

খুলনা: অপরদিকে আদালত সূত্রে জানা যায় খুলনায় সোনাডাঙ্গা জোড়া খুন, হায়দার আলী ও তরিকুল ইসলাম পিকু হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বুধবার ১৫ জুলাই খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন এ রায় দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী। রায়ে ৯ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে। 

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক, নুর উদ্দিন রাজু, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল শিকদার, কালু শেখ, সিদ্দিক, ওয়াসিম ও আব্দুর জব্বার। এদের মধ্যে রায় ঘোষণাকালে ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারহানা হক ডেইজি জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হায়দার আলীর ভাই তৈয়ব আলী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

পিরোজপুর:মঠবাড়িয়া উপজেলায় একটি হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা পলাতক ছিলেন। বুধবার ১৫ জুলাই পিরোজপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমান এই রায় দেন। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মো. ইউনুস আকনের ছেলে মো. কামরুল আকন ও চরকখালী গ্রামের মো. টুকু মিয়া হাওলাদারের ছেলে মো. সোহাগ হাওলাদার। ওই হত্যার ঘটনায় অপর আসামি মো. ইউসুফ আকনকে আদালত খালাস দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৭ মে বিকেলে আসামি কামরুল, সোহাগ ও ইউসুফসহ আরও কয়েকজন পূর্ব শত্রুতার জেরে মঠবাড়িয়া পৌর এলাকার মো. হালিম কাজীর ছেলে রাকিবুলকে বেতমোর বাজারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে কামরুল আকন, সোহাগ হাওলাদার ও ইউসুফ আকনসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ওই দিন মঠবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। 

পরে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। পরে সাক্ষ্য প্রমাণে কামরুল আকন ও সোহাগ দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে এই রায় দেন। মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পিপি আবুল কালাম আকন ও আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. আহসানুল কবির বাদল।





Loading...
Loading...


আইন-আদালত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy