
X
ছবি : প্রতিনিধি
“ইনশাআল্লাহ, আগামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেই কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই ঘোষণা করা হবে"এমন ঘোষণা দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে অ্যালামনাইদের জন্য ওয়েবসাইট, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং ব্যাংক হিসাব চালুরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মমতাময়ী মা সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের দরবারে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। এখানে যারা সনদধারী, তারা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে পারবেন।
ইনশাআল্লাহ, আগামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেই কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই ঘোষণা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের গৃহ। আপনারাই এ গৃহের উত্তরাধিকারী। আপনারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর দিয়ে ধারণ করবেন। ‘টিম জগন্নাথ’-এর মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে অনেক সাবেক শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করেছি এবং তাদের নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে অ্যালামনাইদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করার কারণেই আপনারা জুলাই আন্দোলনেও আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, “দেশে ও বিদেশে কর্মরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই গঠন অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। অ্যালামনাইরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তুলে ধরবেন, আর বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও সহযোগিতা দেবে।”
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই গঠনের লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জবি অ্যালামনাইদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি অ্যালামনাইদের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ওয়েবসাইট এবং ব্যাংক হিসাব চালুরও ঘোষণা দেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
এ সময় লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বজলুর রশীদ খান, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।