পর্যাপ্ত সুবিধার ঘাটতিতে বুটেক্সের ডে-কেয়ার সেন্টার, উন্নয়নের দাবি শিক্ষকদের

বুটেক্স প্রতিনিধি

শিক্ষা

কর্মজীবী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানদের পরিচর্যার জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়(বুটেক্স) ক্যাম্পাসে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত

2026-07-20T19:44:10+00:00
2026-07-20T19:44:10+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
পর্যাপ্ত সুবিধার ঘাটতিতে বুটেক্সের ডে-কেয়ার সেন্টার, উন্নয়নের দাবি শিক্ষকদের
বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম   (ভিজিট : ৩৯)
বুটেক্সের ডে-কেয়ার সেন্টার
X

বুটেক্সের ডে-কেয়ার সেন্টার

কর্মজীবী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্তানদের পরিচর্যার জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়(বুটেক্স) ক্যাম্পাসে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিশু উপযোগী সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে সেটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক। তাদের দাবি, বর্তমান পরিবেশের কারণে অনেক অভিভাবক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডে-কেয়ারের পরিবর্তে বাইরের প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ডে-কেয়ার হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষটি আগে ছাত্রীদের কমনরুম ছিল। পরে সেটিকে ডে-কেয়ার সেন্টারে রূপান্তর করা হয়। তবে কক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই,নেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও। বর্ষাকালে কক্ষে পানি ঢুকে মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এছাড়া শিশুদের ব্যবহৃত খেলার ম্যাট ও খেলনার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন অভিভাবক।

তাদের ভাষ্য, ডে-কেয়ারে শিশুদের জন্য আলাদা ডাইনিং কর্নার, বিশ্রামের জন্য উপযুক্ত বেড, খাবার প্রস্তুতের ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা, শিশু উপযোগী ওয়াশরুম এবং প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধারও অভাব রয়েছে।

একটি আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টারে সাধারণত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেয়ারগিভার, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, নিরাপদ ফ্লোরিং, শিশু উপযোগী টয়লেট, সিসিটিভি নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, শিশুর বিকাশ উপযোগী খেলনা, বিশ্রাম ও খাবারের পৃথক ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করা হয়। শিক্ষকদের দাবি, বুটেক্সের ডে-কেয়ার এখনো সেই মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, “আমি কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করে আমার সন্তানকে এখানে রাখার বিষয়টি ভেবেছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিবেশে সন্তানের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাস পাইনি। কক্ষে এসি নেই, সিসিটিভি নেই, পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে এবং ওয়াশরুমও শিশুদের জন্য ব্যবহৃত উপযোগী নয়। প্রশিক্ষিত ন্যানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডে-কেয়ারের সময়সূচিও শিক্ষকদের কর্মঘণ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের সন্তান কম থাকার কারণে ডে-কেয়ারের উন্নয়নের প্রয়োজন নেই—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং অনুপযুক্ত পরিবেশের কারণেই অনেক শিক্ষক সন্তানকে এখানে রাখতে আগ্রহী হন না। মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কর্মজীবী অভিভাবকেরাও এ সেবা নিতে আগ্রহী হতে পারেন।”

ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিফাত জাহান বলেন, “ডে-কেয়ারে সন্তান রেখে নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। সন্তান কান্না করলেই আমাকে ফোন করে নিয়ে যেতে বলা হতো। প্রশিক্ষিত কেয়ারগিভার থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়। একজন শিক্ষক যদি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বারবার সন্তানের জন্য ছুটে যেতে বাধ্য হন, তাহলে ডে-কেয়ারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।” 

ডে-কেয়ারের দায়িত্বে থাকা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তনুশ্রী বলেন, “ডে-কেয়ারটি এখনও তুলনামূলকভাবে নতুন। শুরু থেকেই কিছু অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক আমার কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি। কেউ সমস্যা জানালে আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ওয়াশরুম শিশুদের জন্য উপযোগী নয়—বিষয়টি ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনকে ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা ওয়াশিং সিঙ্কের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। বর্তমানে শিশু সংখ্যা কম হওয়ায় নতুন সুযোগ-সুবিধা বা বরাদ্দের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মো. মামুন কবির বলেন, “ডে-কেয়ারে নিয়মিত শিশু সংখ্যা খুবই কম। ফলে ব্যবহারকারী কম থাকলে নতুন করে বড় বিনিয়োগের যৌক্তিকতা তৈরি করা কঠিন হয়। তবে শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া জরুরি। আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, বর্তমানে যে স্থানে ডে-কেয়ারটি পরিচালিত হচ্ছে, সেটি এ ধরনের সেবার জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত নয়। একটি আদর্শ ডে-কেয়ারের জন্য খোলামেলা পরিবেশ, খেলাধুলার জায়গা এবং শিশু উপযোগী অবকাঠামো প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “ডে-কেয়ার পরিচালনা কমিটি যদি উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উপযুক্ত স্থানের প্রস্তাব দেয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।”

শিক্ষকদের মতে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডে-কেয়ার শুধু শিশুদের রাখার স্থান নয়; এটি কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক ব্যবস্থা। তাই নিরাপদ পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে বুটেক্সের ডে-কেয়ারকে একটি মানসম্মত শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে পরিণত করা জরুরি।





Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy