
X
সরু বাঁশের সাঁকো
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রাউৎবাড়ি-কুকাদাইর দুই গ্রামের মাঝখানে গোলাপ খাঁর বাড়ির পাশের রাস্তাটি একটু বৃষ্টিতেই তলিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের শতাধিক পরিবারের।
জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের কারণে রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। তাই স্থানীয় লোকজনের নিজস্ব অর্থায়নে ও সহযোগিতায় যাতায়াতের জন্য সরু বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয় কিছু লোকজন। বর্তমানে সেই সরু সাঁকোটি দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে আশপাশের লোকজন। সাঁকোটি সরু হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে বৃদ্ধ ও কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। অনেকে যাতায়াতের সময় সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় গোলাপ খাঁ, আনিছুর রহমান, বিদ্যুৎ হোসাইন ও শিউলি আক্তার বলেন, এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের এই রাস্তাটি করে দিয়েছিলেন। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।
স্থানীয় সোহাগ তালুকদার বলেন, বৃষ্টির কারণে এই রাস্তাটি তলিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে বয়স্ক লোকজন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সরু সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই শিক্ষার্থীরা বই খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া এলাকার কোন লোকজন মারা গেলে মৃত ব্যক্তির খাটিয়া নিয়ে যাওয়া যায় না। অনেক রাস্তা ঘুরে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এছাড়াও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গ্রাম যায়। চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরবর্তীতে বৃষ্টির পানি নেমে গেলেও এখনো উপজেলার গোবিন্দাসী, নিকরাইল, ফলদা ইউনিয়নসহ বেশ কিছু এলাকার রাস্তা কাদামাটিযুক্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও আবার নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সেখান দিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ।
ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল আলীম তালুকদার বলেন, এই রাস্তাটিতে বালুমাটি ব্যবহার করায় একটু বৃষ্টিতেই ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়। এই রাস্তাটি এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে সরু বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে আরো প্রশস্ত করে সাঁকোটি তৈরি করবো ইনশাআল্লাহ।
গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মহির উদ্দিন বলেন, এই রাস্তাটির ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে জানতে পারি যে স্থানীয় লোকজন তাদের নিজ উদ্যোগে সরু বাঁশের সাঁকো তৈরি করে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছে। অতি দ্রুত এই সাঁকোটি প্রশস্তের কাজ হবে ইনশাআল্লাহ। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এবিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কর্মকর্তা মোঃ তোরাব আলী বলেন, উপজেলাটি নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় এখানকার রাস্তা তৈরিতে বালুমাটি ব্যবহার করায় রাস্তাগুলো একটু বৃষ্টিতেই ভেঙে যায় এবং নিচু এলাকার রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোর সংস্কারকাজ শুরু করেছি। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। অনুমোদন হয়ে এলে রাস্তাগুলো পাকাকরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।