প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম (ভিজিট : ২৫)

X
ছবি: প্রতিনিধি
মরুভূমির সুস্বাদু ফল সৌদি খেজুরের চাষ একসময় ছিল শুধু শখের উদ্যোগ। তবে সেই শখই এখন বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনায় রূপ নিয়েছে। পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসী গ্রামের উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান নিজস্ব উদ্যোগে সৌদি জাতের খেজুর চাষ করে ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফলন পেয়েছেন।
তার এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, আর সম্ভাবনাময় এই উদ্যোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার।
চার বছর আগে থেকে ১ বিঘা জমিতে চারা রোপন করলেও বর্তমানে তার ১৫ থেকে ১৬ টি গাছে ফল ধরেছে যা পরিপক্ক হয়ে উঠেছে। সৌদি খেজুরের আবাদ দেখার জন্য আটঘরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মতোমাইন্না বাগান পরিদর্শন করে চরম আশাবাদী।
সরজমিনে বাগানটি পরিদর্শন কালে দেখা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে থেকে সাইফুজ্জামান শখ করে মাত্র ৪ টি খেজুর গাছের চারা রোপন করে যত্ন করতে থাকে। সেই গাছের খেজুর বিক্রি করে সে আশাবাদী হয়ে পরবর্তীতে পাশের গয়েশপুর এলাকা থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রায় ১৫০ টি চারা রোপণ করে কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক সেবা যত্ন করতে থাকেন। খেজুর গাছগুলো এখন বাড়ন্ত এবং ধরন্ত প্রায় ১৫ থেকে ১৬ টি গাছের খেজুর পরিপক্ক অবস্থায় শোভা পাচ্ছে এবং এর থেকে উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান অনেক টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
আটঘরিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার মাহমুদা মোতইন্না খেজুর বাগান পরিদর্শনকালে জানান, আগ্রহী উদ্যোক্তা কৃষক সাইফুজ্জামানের সৌদি খেজুর বাগানের ১৫ থেকে ১৬ টি গাছে এখন প্রায় পরিপূর্ণ পাক ধরেছে, এতে যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান কৃষি বিভাগ থেকে পলিথিনে মোড়ানো, সার, কীটনাশক, সেচ ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে এবং এখানকার খেজুর বাগানে মরিয়ম আজওয়া, মেটজুল, বারবিসহ বিভিন্ন জাতের খেজুর আবাদ করা হয়েছে অন্যান্য যা আশার আলো দেখাচ্ছে। উদ্যোক্ত সাইফুজ্জামান সফল হলে আটঘরিয়ার অন্যান্য কৃষকের মাঝেও এই সৌদি খেজুরের চাষ ছড়িয়ে হবে বলে কৃষিকর্মকর্তা জানান। পবিদর্শন কালে কৃষি উপজেলা বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্যোক্তা সাইফুজ্জামান জানান, একটি পত্রিকায় সৌদি খেজুর চাষের সফলতার খবর পড়েই তার আগ্রহের সূচনা। এরপর কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে খেজুরের বাগান গড়ে তোলেন। আশানুরূপ ফল পাওয়ায় এখন তিনি বাগান আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি এলাকার অন্য কৃষকরা এ চাষে আগ্রহী হলে তাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। তার এই উদ্যোগকে ঘিরে সৌদি খেজুর চাষের সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।