
X
ছবি: প্রতিনিধি
“শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাঁর অনুপস্থিতিতে জাতিকে ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় পথ দেখানোর জন্য তিনি যে দর্শন রেখে গেছেন, সেটিই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।"
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জবি শাখার উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
উপাচার্য বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনে দেশের মানুষ যখন দিশেহারা, তখন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। শুধু ঘোষণা দিয়েই তিনি দায়িত্ব শেষ করেননি; মুক্তিযুদ্ধের সামরিক প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ, একটি মানচিত্র, একটি ভূখণ্ড ও স্বাধীনতার চেতনা পেয়েছি। বাংলাদেশের সংকটময় সময়ে তিনি পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন।"
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সময়েই বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করেছে।
অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান কৃষি, অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের আলোকে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।