প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৩৪)

X
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামলেও দুর্ভোগ কমেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের। খোয়াই নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনে জেলার ১১৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট মেরামত ও পুননির্মাণে প্রাথমিক হিসাবে ৭৫ কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন হবে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জের বাসিন্দা খুরশেদ আলম বলেন, খোয়াই নদীর ভাঙনে সড়কের খুব খারাপ অবস্থা হয়েছে। চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। মানুষ এখন এই সড়ক এড়িয়ে দূরের অন্য পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মোঃ ছালাহ উদ্দিন ও সোহরাব মিয়া বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যাত্রীরা এই পথে যেতে চান না, ফলে প্রতিদিন আয় কমছে। উল্টো গাড়ি মেরামতের পেছনে বাড়তি খরচ হচ্ছে।
পিকআপ চালক গোপাল দাস বলেন, পণ্য নিয়ে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং অনেক বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বাধীন মিয়া ও মিফতা মিয়া জানান, পানি নামলেও সড়ক ভাঙা থাকায় বাজারে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কিংবা রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দ্রুত গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় স্থায়ী ক্ষতি তৈরি হবে।
এলজিইডি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ১১৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে পুরোপুরি পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।