
X
ছবি : প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি চার লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য কর্মচারীর অভাবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত দুটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) দীর্ঘদিন ধরে খুড়িয়ে খুড়িয়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহির্বিভাগে প্রতিদিন শত শত রোগীর উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু চিকিৎসকের সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের যশোর জেনারেল হাসপাতাল বা খুলনায় রেফার করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির জুনিয়র কনসালটেন্টের অনুমোদিত ১৩টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। শূন্য রয়েছে ৯টি পদ। মেডিকেল অফিসারের ১৯টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ১৩ জন, শূন্য রয়েছে ৬টি পদ।
অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির ২৫টি পদ পূর্ণ থাকলেও তৃতীয় শ্রেণির ৮০টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৬ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৪৪টি পদ। চতুর্থ শ্রেণির ১৯টি পদের বিপরীতে আউটসোর্সিংসহ কর্মরত রয়েছেন ১৩ জন। এখানেও শূন্য রয়েছে ৬টি পদ।
হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে আয়া, ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পতায় ওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ডে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং কিছু সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতার চিত্রও দেখা গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশেষজ্ঞ সার্জন ও অ্যানেসথেসিস্ট না থাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পরে এখন তা চলছে নাম মাত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ পেলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও অনেক উন্নত হবে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা না হলে চার লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সংকটের মুখে পড়বে।
হাসপাতালটিকে সম্প্রতি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে বিদ্যমান জনবল সংকট নিরসন করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।