প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম (ভিজিট : ১৪৩)

X
ছবি : প্রতিনিধি
জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মোঃ ইসহাক আলীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মোট ৬ জন শিক্ষককে সশরীরে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
সারাদেশে শিক্ষা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) কর্তৃক জাল সনদধারী হিসেবে শনাক্ত হওয়া মোট ৬৩ জন শিক্ষকের তালিকার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই শিক্ষকরাও রয়েছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিক জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আগামী ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় ঢাকা শিক্ষাভবন মাউশি মহাপরিচালকের কার্যালয়ে এই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
গত বুধবার মাউশির কলেজ শাখা-৩-এর উপ-পরিচালক শফি মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই জরুরি নোটিশ জারি করা হয়।
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তলব প্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকরা হলেন— নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী কলেজের গণিত বিষয়ে শিক্ষক প্রভাষক ইসাহাক আলী, ভোলাহাট মোহবুল্লাহ কলেজের নন-এমপিওভুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আমেনা খাতুন ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রুমানা আক্তার; শিবগঞ্জ বিনোদপুর ডিগ্রি কলেজের নন-এমপিওভুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ মমিনুল ইসলাম; উজিরপুর আদর্শ কলেজের নন-এমপিওভুক্ত সাচিবিক বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মোঃ মোহবুল আলম এবং শিবগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিক মোছাঃ মিনিয়ারা খাতুন।
প্রকাশিত নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শুনানির দিন অভিযুক্ত শিক্ষকদের মূল সনদপত্র, নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত মূল কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত দুই সেট কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ যদি ইতিমধ্যে পদত্যাগ, অপসারণ, বরখাস্ত, প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা মৃত্যুবরণ করে থাকেন, তবে সে সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রমাণাদিসহ প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে উপস্থিত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাল সনদের অভিযোগে তলব পাওয়া নাচোল রাজবাড়ী কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মোঃ ইসাহাক আলী বর্তমানে 'এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ'-এর পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও নিয়োজিত রয়েছেন। একজন জালিয়াতির অভিযুক্ত শিক্ষক কিভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শুনানির পর দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিল, জালিয়াতির মামলা এবং অবৈধভাবে গৃহীত সরকারি অর্থ ফেরতের মতো কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মাউশি সূত্রে জানা গেছে।