
X
ছবি: প্রতিনিধি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে নবীনদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে গাছের চারা ও সোনালি আশ পাটের তৈরি ব্যাগ, কলম, ম্যাগাজিন, ডায়েরী, ক্যালেন্ডার তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সংরক্ষিত নারী আসন-৯ এর সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান এবং সংরক্ষিত নারী আসন-৩০ এর সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত আলী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।
ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রশীদ, এফআরএসসি। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, "শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু শেখার জায়গা নয়, এটি স্বপ্ন দেখার জায়গা। স্বপ্ন দেখতে পারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তোমরা যদি স্বপ্ন দেখ, তবে তা একদিন বাস্তবে রূপ নেবে। বড় হতে হলে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই।"
তিনি আরও বলেন, "জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো একজন ভালো মানুষ হওয়া। বিসিএস ক্যাডার বা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়েও বড় পরিচয় হলো মানবিক মানুষ হওয়া। পড়াশোনার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করবে, বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।"
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, "বর্তমান শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নয়, বাস্তব বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, দেশ ও সভ্যতার অগ্রগতিতে অবদান রাখার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা দিতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিতুন কুমার পোদ্দার এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাবিহা আফরিন বাধন।