সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় একটি গানের সঙ্গে নিজের হাঁটার ভিডিও প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষ তাকে ট্রল ও হেনস্তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ধরনের ভিডিওতে অন্যায় কিছু দেখছেন না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
এদিকে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেননি। তবে গান গাওয়াকে তিনি অন্যায় মনে করেন না।
জানা যায়, গত ২৩ জুলাই বিউটি রানী পাল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ থেকে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে শাড়ি পরা অবস্থায় একটি জনপ্রিয় গানের সঙ্গে স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটতে দেখা যায়। এরপরই ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
তবে বিউটি রানীর সহকর্মীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা পেশার মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে তার প্রতি সংহতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই গানের সঙ্গে নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশাদও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে সিলেটে এক কর্মশালায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেননি। তবে তার কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে ভিডিও আপলোড করেছেন বলে শুনেছেন। এতে কোনো অশ্লীলতা নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।”
বিউটি রানী পাল জানান, স্কুল ছুটির পর তার এক সহকর্মী ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা মুখে বলব কারিকুলাম উন্নত, কিন্তু আমাদের চিন্তাভাবনা যদি সংকীর্ণ থাকে, তাহলে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেওয়া কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। সামাজিকভাবে কাউকে হেনস্তা করা কাম্য নয়। যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।