
X
ফাইল ছবি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। উপজেলায় ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৬ হাজার ৭২৩ জন। তবে প্রতিবছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমতে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক অভিভাবক এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে বেশি আগ্রহী। এর প্রভাব পড়েছে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে। অনেক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, আবার কোথাও কোথাও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট আনুমানিক ২০-৩০টি।শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৪-৬ হাজার। ফলে অনেক অভিভাবকদের ধারণা এখানে কেবল মেধাবী শিক্ষার্থীরাই পড়েন এই ভুল ধারণা থেকেই সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক প্রাথমিক শিক্ষা পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি কমে যাওয়ার পেছনে কিন্ডারগার্টেনের প্রসার, অভিভাবকদের ধারণাগত পরিবর্তন এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণগুলো অন্যতম।
একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক, মিজ, নাহার বেগম, এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি মনে করেন কিন্ডারগার্টেনে নিয়মিত ক্লাস, বাড়ির কাজ, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব এবং শিক্ষকদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কারণে শিশুর পড়াশোনা বেশি হয়। অথচ অনেক সরকারি বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তবুও এসব ইতিবাচক দিক অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় না।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়াতে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রতিটি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষক উপস্থিতি ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা। প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ করে সন্তানের অগ্রগতি জানানো। ইংরেজি, তথ্যপ্রযুক্তি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম আরও জোরদার করা।বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয় ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ফলাফল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা। বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফল, মেধাবী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সাফল্য স্থানীয়ভাবে প্রচার করা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সমাজকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা।
এ বিষয়ে, রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফ জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোই দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মূল ভিত্তি। তাই আমরা ভবন নির্মাণ বা অবকাঠামোর শুধু উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত মান, জবাবদিহিতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবার কর্মসূচি হাতে নিয়েছি এতে করে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাবে। এজন্য সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।