
X
ছবি : প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের আড়জুড়ি মৌজায় সরকারি খাস জমি থেকে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরুল শেখের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, গত চার থেকে পাঁচ দিন ধরে সরকারি খাস জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে পাশের এলজিইডির কার্পেটিং সড়ক ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুশলী ইউনিয়নের আড়জুড়ি মৌজার মধুমতি নদীর পাশে সরকারি খাস জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি পরিবহনের কারণে রামচন্দ্রপুর ৮ নং ওয়ার্ডের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
ঘটনাস্থলে থাকা ভেকু চালক হেলাল সাংবাদিকদের জানান, "আমার গাড়ি চুক্তি করে নিয়ে এসেছেন ইমরুল। আমরা রাস্তার পাশ থেকে যে মাটি কাটছি, পরে আবার ভরাট করে দেব।"
এলজিইডির কার্পেটিং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "রাস্তার কিছু ক্ষতি হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।"
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাটার পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের কারণে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমরুল শেখ বলেন, "হ্যাঁ, মাটি আমি কাটাচ্ছি। আমি এখন ব্যস্ত আছি, পরে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।"
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন শেখ বলেন, "ইমরুল পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি আমি জানতাম না। আপনাদের কাছ থেকেই জানতে পারলাম। বিষয়টি তার সঙ্গে কথা বলে খোঁজ নেওয়া হবে।"
এদিকে, স্থানীয়দের দাবি, সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সড়ক সংস্কার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।