প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ২:৫২ পিএম (ভিজিট : ২৩)

X
সংগৃহীত ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে এক বহিরাগত ছাত্রকে রাতভর মারধর ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. তোফায়েল, যিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তোফায়েল ভুয়া পরিচয়ে জাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে কয়েকজন ছাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন এবং তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া এবং ফোনে আপত্তিকর কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাতভর তাকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি জঙ্গলের দিকেও ঘোরানো হয়। পরদিন সকালে তার পকেটে থাকা ৩০০ টাকা দিয়ে অভিযুক্তরা নাশতা করেন। পরে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী হামিদুল্লাহ সালমান তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি ভিডিও বক্তব্য ধারণ করেন এবং পরে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী তোফায়েল বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সঙ্গে জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভর পরিচয় হয়। তার পরিচয়ে আমি জাবি ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসি। কিন্তু শুভ ও তার বন্ধুরাই আমাকে রাতভর মারধর ও হয়রানি করেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জঙ্গলে নিয়ে ঘোরানো হয়েছে। আমার হাতে তামাকের প্যাকেট ধরিয়ে ভিডিও ধারণ করে বলা হয়, আমি তামাকসহ ধরা পড়েছি। সকালে আমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়ে সবাই নাশতা করে। পরে এক ভাই (হামিদুল্লাহ সালমান) আমাকে জোর করে শিবির আখ্যা দিয়ে ভিডিও করেন। অথচ আমি নবম শ্রেণিতে থাকাকালে মাত্র তিন মাস শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, কোনো কর্মী, সাথী বা সদস্য ছিলাম না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভ বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে সে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। তাই আমরা তাকে মারধর করেছি। হাতে তামাক ধরিয়ে ভিডিও করার অভিযোগ সত্য নয়। তার ফোনে মেয়েদের নিয়ে আপত্তিকর কিছু বিষয় পেয়েছিলাম। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় তার কাছ থেকেই নাশতার বিল দেওয়া হয়েছিল।”
জানা গেছে, ঘটনার পরদিন দুপুর দেড়টার দিকে ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।