
X
ছবি: প্রতিনিধি
বিশ্বের ২৪টি দেশ থেকে জমা পড়া এক হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬-এ অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে জাতীয় বিভাগে তৃতীয় সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও তরুণ নির্মাতা ইফফাত রওনাক প্রমি পরিচালিত ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন এবং পুরস্কার তুলে দেন।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের Mass Campaign to Combat Human Trafficking and People Smuggling উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসনের মানবিক গল্পগুলোকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে তুলে ধরাই ছিল এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৪টি দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্র উৎসবে জমা পড়ে। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ৫৭টি এবং চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য ২৩টি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়। সেই প্রতিযোগিতায় জাতীয় বিভাগে তৃতীয় সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায় ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’।
পুরস্কারপ্রাপ্তির পর নির্মাতা ইফফাত রওনাক প্রমি বলেন, ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’ মূলত অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালানের ভয়াবহ বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। উন্নত জীবনের স্বপ্নে দেশ ছেড়ে যাওয়া অনেক মানুষের যাত্রা কীভাবে প্রতারণা, অনিশ্চয়তা এবং কখনো কখনো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়, সেই নির্মম বাস্তবতাই আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমাদের মূল বার্তা হলো সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা।
চলচ্চিত্র নির্মাণে সহযোদ্ধাদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি চলচ্চিত্র কখনোই একজন মানুষের একক কাজ নয়। এই অর্জনের পেছনে পুরো টিমের আন্তরিক পরিশ্রম রয়েছে। পাঁচ সদস্যের ছোট একটি দল নিয়ে আমরা কাজ করেছি। চলচ্চিত্রটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আদনান চৌধুরী। চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন সৃজন পাল। সহকারী পরিচালক হিসেবে তাসফিকুর রহমান প্লাবন ও রাইশা রশিদ দিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
নিজের অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি যেমন আনন্দের, তেমনি বড় একটি দায়িত্বও। দেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘দ্য লাস্ট প্যাসেজ’ পুরস্কৃত হওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য গর্বের বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনারও শক্তিশালী হাতিয়ার। বর্তমানে অনিয়মিত অভিবাসন একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা। ভবিষ্যতেও মানুষের জীবন, মানবিক সংকট এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাই, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাটাশে জিওসেপ্পে দি জিওভান্নি এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন। উৎসবের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন নির্মাতা হিমেল আশরাফ, রাহনুমা সালাম খান ও সাহিল রনি।