
X
প্রতীকী ছবি
সকালের ব্যস্ততা, মানুষের ভিড় আর কেনাকাটায় জমে উঠেছে রাজারহাটের বিভিন্ন হাট-বাজার। এসব বাজারে প্রতিদিন শত শত মানুষ চা, সিঙ্গারা, পুরি, জিলাপি, চটপটি, ফুচকা, কাটা ফলসহ নানা ধরনের খাবার কিনে খান। কিন্তু এসব খাবার কতটা নিরাপদ তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক খাবারের দোকানে খোলা অবস্থায় খাবার রাখা হচ্ছে। ধুলাবালি, মাছি ও যানবাহনের ধোঁয়ার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে নানা খাবার। অনেক দোকানে খাবার ঢেকে রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয় প্রশাসনের তালিকায় রাজারহাট উপজেলায় একাধিক হাট-বাজার রয়েছে। এসব হাট-বাজারে খাবারের দোকানের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ দেখা যায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক সময় খাবারের দোকানের আশপাশে ময়লা জমে থাকে। ব্যবহৃত প্লেট, গ্লাস ও পানির পাত্র পরিষ্কার রাখা হচ্ছে কি না তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
রাজারহাট বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, "হাটে এসে গরম গরম খাবার খেতে ভালো লাগে। অনেক সময় দেখি খাবার খোলা থাকে, মাছি বসে। কিন্তুু কিছু করার থাকেনা বাধ্য হয়েই খেতে হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুলপড়ুয়া শিশু-কিশোররা এসব খাবারের বড় ক্রেতা। কম দামে পাওয়া এসব খাবার খেয়ে অনেক সময় পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া বা অসুস্থতার অভিযোগ করেন কেউ কেউ।
হাফিজুর ইসলাম নামে একজন অভিভাবক বলেন, "বাচ্চারা হাটে গেলে ফুচকা, চটপটি বা ভাজাপোড়া খাবার খেতে চায়। তাদের নিষেধ করা স্বত্বেও বায়না করে বসে,ফলে বাধ্য হয়েই কিনতে হয়।
খাবার বিক্রেতারা হাসেন আলী বলেন,আমরা সাধ্যমতো পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি। তবে হাটে নির্দিষ্ট দোকানঘর, বিশুদ্ধ পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব থাকায় অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়।
রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিউটি বেগম বলেন, হাট-বাজারে যেসব খাবার তৈরি হয় তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। একই তেল দিয়ে একাধিক খাবার তৈরি, খাবারে সাল্টুর ব্যবহার,বাঁশি খাবার, খাবারে কালার রং ব্যবহার যা একজন মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুকি দেখা দেয়। এছাড়াও দীর্ঘদিন এসব খাবার গ্রহণের ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থুলতা,হার্টসহ নানা ধরনের জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।