প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ পিএম আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ৬:০৮ পিএম (ভিজিট : ৭৭)

X
ছবি: প্রতিনিধি
রংপুর মহানগরের হারাগাছ থানাধীন এলাকায় বিয়ের প্রলোভনে এক যুবতীকে ভাড়া বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনার মামলায় অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মামলায় গ্রেফতার রাশেদুলকে আদালতে মাধ্যমে রংপুর কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী হারাগাছ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় ধর্ষন আইনের ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মামলায় অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম লালমনিরহাট সদরের হরিনচওড়া কালমাটি এলাকার জিয়াউল হকের ছেলে।
ভুক্তভোগী নারী (২০) জানান, তার বাড়ী ফরিদপুরে এবং দুই বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। স্বামী নেশাগ্রস্থ হওয়ায় গতবছর তাদের তালাক হয়। প্রায় চার মাস আগে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে লালমনিরহাট সদরের রাশেদুল নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। সে (ভুক্তভোগী নারী) রাশেদুলকে জানায় তিনি তালাকপ্রাপ্ত ও তার একটি ছোট মেয়ে রয়েছে।
রাসেদুল ইমো অ্যাপে তাকে ও কোলের সন্তানকে দেখে। রাসেদুল সবকিছু জানার পরও সন্তানকে নিয়ে তাকে বিয়ে করে সংসার করার কথা জানায়। কয়েকদিন আগে রাসেদুল বিয়ে করার জন্য তাকে রংপুরে আসতে বলে। বিয়ের আশ্বাসে তিনি কোলের সন্তানকে নিয়ে ফরিদপুর থেকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রংপুর মহানগরের সাতমাথায় আসেন। তাকে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে বিয়ের করে পরে নিয়ে যাবে জানায় রাশেদুল।
পরে সেখান থেকে রাশেদুল তাকে ও তার কোলের সন্তানকে নিয়ে হারাগাছ থানাধীন বাহারকাছনা সিগেরেট কোম্পানী এলাকায় এসে জুম্মাটারী এলাকায় জনৈক ব্যক্তির বসতবাড়ীতে ভাড়া ঘরে উঠায়। ভাড়া বাড়ীর ঘরে সন্ধার দিকে প্রথমে যৌন কামনা চরিতার্থে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান স্পর্শ করে রাশেদুল। বাঁধা দিলে বিয়ে করার কথা বলে তাকে জোড়পূর্বক সারা রাতভর একাধিকবার ধর্ষণ করে রাশেদুল।
পরদিন বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে রাশেদুল ভাড়া বাড়ীতে তাকে একা ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করে। প্রতারনার বিষয়টি জানতে পেরে সে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন রাশেদুলকে আটক করে পুলিশের খবর দেয়।
ভুক্তভোগী নারী (২০) বলেন, তালাকপ্রাপ্ত জেনেও রাশেদুল তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলো। বিয়ের আশ্বাসে সরল বিশ্বাসে কয়েকশত কিলোমিটার দুর থেকে রাশেদুলের কাছে এসেছি এবং এলাকা অপিরিচিত হওয়ায় কাউকে কিছু বলতে পারেন নাই। রাশেদুল বিয়ের নামে প্রতারনা করে তাকে ধর্ষণ করেছে। তার মতো আর কোন নারী সাথে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারনা না করে বিচারিক আদালতে ধর্ষক রাশেদুলের দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান ভুক্তভোগী নারী।
রংপুর মেট্টোপলিটন হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে এবং দুপুরে অভিযুক্ত রাশেদুল রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালত কোর্ট পুলিশের ওসি আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, হারাগাছ থানায় ধর্ষণ আইনে মামলার গ্রেফতার রাশেদুলকে আদালতে মাধ্যমে রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।