
X
77B2B অনলাইন গেমিং
হঠাৎ অপরিচিত নাম্বার থেকে মোবাইল ফোনে একটি কল। ওপাশ থেকে কেউ একজন বলছে- আমি 77B2B অনলাইন গেমিং থেকে বলছি। আপনিতো অনেক সাইটে গেমিং করেছেন। কিন্তু, ভালো কিছু করতে পারেননি। বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে বলা হলো চাইলে গেমটা ট্রাই করতে পারেন। এই বলে পাঠানো হয় বিভিন্ন লিঙ্ক। যেখানে ক্লিক করামাত্রই ঘটতে পারে মোবাইল হ্যাকের মতো ঘটনা। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সোনাইমুড়ীর এক যুবক।
+8809658849448 থেকে আসা কলের বিষয়ে পরিচয় গোপন রাখা শর্তে ঐ যুবক জানান, অপরিচিত নম্বর থেকে কল দিয়ে জানানো হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকা জমা দিলেই পাবেন ২ হাজার টাকার বোনাস। প্রথম খেলায় হারলেও টাকা ফেরত। বলে লোভ দেখানো হয়েছে। অথচ, আমি অনলাইন গেমিং সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তবে, এটা বুঝতে পেরেছি। হয়তো হ্যাকারের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর জানতে চাওয়া হলো আমি ইমু ব্যবহার করি কিনা?
উত্তরে না বলায় আবারো জানতে চাওয়া হলো টেলিগ্রাম ব্যবহার করে কিনা? এবারো না বলাতে একটি নম্বর (01614077386) থেকে একটি লিঙ্কসহ বার্তা পাঠানো হলো। বার্তায় লেখা ছিলো- হাই স্যার আমি রাজু , আপনার নিবন্ধন লিংক: https://cutt.ly/5yejW4zw। এরপর আমি আর ঐ লিঙ্কে ক্লিক করিনি মোবাইল হ্যাক হওয়ার ভয়ে।
এমন লোভনীয় প্রস্তাব এখন অনেকের কাছেই পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি সরাসরি ফোনকলের মাধ্যমেও বিভিন্ন অনলাইন গেমিং ও বেটিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার অভিযোগ বাড়ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথমে নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ফ্রি বোনাস, ক্যাশব্যাক, রেফারেল কমিশন কিংবা নিশ্চিত লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে শুরুতে সামান্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা জমা দিতে উৎসাহিত করা হয়। অনেকেই একসময় বুঝতে পারেন, তাদের সঞ্চয় প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
দেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে বিভিন্ন সংস্থা। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং তরুণদের মধ্যে আসক্তি বাড়ছে।
ভুক্তভোগীদের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একবার নিবন্ধনের পর বিভিন্ন নম্বর থেকে নিয়মিত ফোন, এসএমএস কিংবা মেসেজ আসে। নতুন অফার, বিশেষ বোনাস বা "ভিআইপি সদস্য" হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবারও অর্থ জমা দিতে চাপ দেওয়া হয়। কেউ সাড়া না দিলে অন্য নম্বর থেকেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব চক্র প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, অনলাইন প্রচারণা এবং বিভিন্ন ডেটাবেস ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। তাই অচেনা নম্বর থেকে আসা আর্থিক অফার সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা জরুরি। শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে তরুণদের এই আসক্তি থেকে দূরে রাখতে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে আসা সন্দেহজনক অফার, অচেনা লিংক বা নিশ্চিত লাভের প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে অবৈধ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী চাইলে একটি জিডি করতে পারে। পরবর্তীতে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।