
X
ছবি : প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে ‘দৃশ্য ও শব্দে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়; এটি গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তরুণদের সাহসী অংশগ্রহণের এক অনন্য অধ্যায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের ৯১৫ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবির। প্রধান অতিথি ছিলেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ও লেখক এহসান মাহমুদ।
মূল প্রবন্ধে ড. খোরশেদ আলম বলেন, অতীতের গণআন্দোলনগুলোর মতো জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তবে মূলধারার কিছু গণমাধ্যম আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার পরিবর্তে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সংবাদ পরিবেশন করেছে। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী দৃশ্য অনেক সময় হাজারো শব্দের চেয়েও বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের বুলেটের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে এবং দেশজুড়ে গণজাগরণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকাসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তরুণরা প্রযুক্তির বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে আন্দোলনের তথ্য দেশ-বিদেশে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিল। ভবিষ্যতের সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনেও প্রযুক্তিনির্ভর এই সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলোচক এহসান মাহমুদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে দিয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা কখনো মুছে যাবে না।” বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাইকে উপজীব্য করে রচিত নিজের একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগ, সাহস ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবির বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু বিজয়ের নয়, বরং শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের কষ্ট এবং অসংখ্য পরিবারের বেদনার ইতিহাস। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, চলচ্চিত্র ও অন্যান্য অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণের আহ্বান জানান।
সেমিনারে নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাবিবা সুলতানা, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।