প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম (ভিজিট : ৩৬)

X
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৭ জুলাই ইউএইর একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
কারামুক্তির পর গণমাধ্যমে দেয়া সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে মামলার চলমান আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
দুবাই-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আদালত তার জামিনের সঙ্গে কয়েকটি শর্ত যুক্ত করেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়তে পারবেন না। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে এসব শর্ত কার্যকর থাকবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি, মামলার তথ্য এবং আইনি যুক্তি নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দুবাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহযোগিতায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সমন্বয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগে দুদক একাধিক মামলা করেছে। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি সহায়তা চেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়, যার ধারাবাহিকতায় তাকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তদন্ত শুরু করে দুদক। ওই সময়ই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং বিভিন্ন আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশেই প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।