প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম (ভিজিট : ১৫)

X
ছবি : প্রতিনিধি
নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নীতিমালা ভঙ্গ করে সরকারি কাজে কর্মরত কর্মীদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ৪৬ জনকে নিয়োগদানের অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কাংশা গ্রামের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ভিকটিম জাহাঙ্গীর আলম এ নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে গত ২৭ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে গালফ সিকিউরিটি সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড তাকে ২০২১ সালের ২৭ মে চাকুরী দেয়। আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় চাকুরীর নিয়ম অনুযায়ী যাহার আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় চাকুরী গ্রহণ করিয়াছে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে বহাল রাখা অগ্রাধিকার রয়েছে।
কিন্তু নব নিযুক্ত ঠিকাদার হামিদুর রহমান খান তুহিন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, প্রধান সহকারি উত্তম কুমার ঘোষ,আউটসোর্সিং কর্মচারী সুজন তাহারা পরস্পর যুগসাজসে ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় আমাদেরকে চাকুরী হইতে বিতাড়িত করিয়া বিভিন্ন লোকের নিকট হইতে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করিয়া চাকুরী দিয়েছেন।
আমাদের অনেককেই বিনা নোটিশে কোন কারণ ছাড়াই ৬ মাসের বেতন না দিয়া চাকুরী থেকে বাদ দেয়ায় আমরা কোন কর্ম করিতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করিতেছি। নবনিযুক্ত ঠিকাদার হামিদুর রহমান খান তুহিন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, প্রধান সরকারি উত্তম কুমার ঘোষ, আউটসোর্সিং কর্মচারী সুজন অত্যন্ত সুকৌশলী ব্যক্তি।
তাদের নিজস্ স্বার্থ তাদের সিংহাসন ছাত্র সংশ্লিষ্ট বিষয় হাসিল করার অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট বিষয় হাসিল করার অভিপ্রায় তাহারা অমানবিক অবান্তর দুর্নীতি মূলক কাজ করিতেও কোনটাবোধ করে না। আমরা আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সুনামের সহিত চাকরি করা সত্ত্বেও তাহারা বিভিন্ন লোকজনের নিকট হইতে নগদ টাকা উৎকুচ আদায় করিয়া বেআইনিভাবে আমাদেরকে চাকুরী থেকে বাদ দিয়েছেন। তাই সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন পূর্বক আইনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহ ২০২৫ এর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদেরকে চাকরিতে বহাল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীতভাবে দাবি জানাই।
নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের প্রধান সহকারি উত্তম কুমার ঘোষ কে জেলায় বড় ম্যাডাম হিসেবে পরিচিত আশরাফ আলী খান খসরু এমপির স্ত্রী মরহুমা দিনা আশরাফের প্রতিনিধি হিসেবে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ পরিচালিত করার জন্য জন্য বহাল তবিয়তে থেকে বর্তমান সরকারের এমপি নেতাকর্মীদের দোহাই দিয়ে কুখ্যাত আওয়ামী পরিবারকে চাকুরীর সুবিধা দিয়েছেন।জাতীয়তাবাদী চেতনার লোকজনকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে চাকুরী থেকে বিতাড়িত করে উত্তম কুমার ঘোষের অবৈধ অর্থ উপার্জনের রাস্তা পূর্ণ সমর্থন করেছেন বর্তমান অধ্যক্ষ।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন,আমি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একজন লোকের জন্য ও সুপারিশ করিনি। নতুন ঠিকাদার তার পছন্দ মাফিক সকল জনবল নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। চাকরি থেকে বঞ্চিত কয়েকজন এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন বলে শুনেছি। মেডিকেলের পক্ষ থেকে ওই মামলায় আইনগতভাবে জবাব দেয়া হবে।
প্রধান সহকারী উত্তম কুমার ঘোষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখন দিনা আশরাফ ও আশরাফ আলী খান খসরু কেহই নেই। এই সময়ে তাদের কথা বলে লাভ কি।