
X
ছবি: প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধারণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Run Against Fascism: July Uprising Run 2026’।
‘জুলাই মোদের ধমনিতে, টগবগ করবে আমৃত্যু’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সকাল সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন থেকে দৌড় শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, এমএইচ হল, টিএসসি, মেয়েদের হল, চৌরঙ্গী ঘুরে পুনরায় নতুন কলা ভবন প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিবন্ধন বুথ থেকে খাবার সংগ্রহ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৫টা থেকেই নিবন্ধন বুথে অংশগ্রহণকারীদের দীর্ঘ সারি। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ছবি তোলার জন্য ফটোবুথ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর উক্তি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে আহতদের ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, জুলাই চার্টারের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা, গুম ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ছাত্রশিবির দেশব্যাপী ৩৬ দিনের কর্মসূচি পালন করেছে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে পাড়া-মহল্লা থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত রান প্রতিযোগিতা, মিছিল, গ্রাফিতি অঙ্কন, আলোচনা সভা, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে; কিন্তু রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সে ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা দেশের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করছে।
তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হলে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজ আবারও প্রতিবাদে সোচ্চার হবে। পরে তিনি ‘রান এগেইনস্ট ফ্যাসিজম: জুলাই আপরাইজিং রান’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের এই আয়োজনে সাড়া দিয়ে যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ধন্যবাদ। ছাত্রশিবির যেভাবে জুলাইয়ের চেতনা এবং শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থেকে কাজ করে এসেছে, সেই চেতনাকে ধারণ করেই আমরা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা বাস্তবায়নে আমরা নিরন্তর কাজ করে যাব। ম্যারাথন, মিছিল, সভা-সমাবেশ কিংবা আমাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সবকিছুর মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের চেতনাকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”