৩৪ জুলাই: শহীদ মিনারে যেভাবে আসে সরকার পতনের ‘এক দফা’

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয়

চব্বিশের ৩ আগস্ট, আন্দোলনকারীদের ভাষায় দিনটি ছিল ‘৩৪ জুলাই’। রক্তাক্ত জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায় সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ

2026-08-03T17:42:19+00:00
2026-08-03T17:42:19+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
৩৪ জুলাই: শহীদ মিনারে যেভাবে আসে সরকার পতনের ‘এক দফা’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম   (ভিজিট : ৩২)
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
X

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

চব্বিশের ৩ আগস্ট, আন্দোলনকারীদের ভাষায় দিনটি ছিল ‘৩৪ জুলাই’। রক্তাক্ত জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায় সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন। সেখান থেকেই তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয় অসহযোগ কর্মসূচি।

এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণহানি, কারফিউ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মধ্যেও আন্দোলন থামেনি। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের উপস্থিতি আন্দোলনকে নতুন গতি দেয়। সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। এই সরকার কোনোভাবেই আর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার বৈধতা রাখে না।’

এক দফা ঘোষণার পাশাপাশি আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে অসহযোগ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে এ বিষয়ে সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ১৬ জুলাই এক দফা ঘোষণা করা হলে সেটি সফল হতো না। অনেকেই ২ আগস্ট রাতেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এক দফা ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছিলেন। 

তবে তাদের সিদ্ধান্ত ছিল, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর জনতার সামনে উপস্থিত হয়েই এ ঘোষণা দেওয়া হবে। কারণ, মানুষকে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নামার আহ্বান জানাতে হলে সেই সাহস নিজেদেরও প্রকাশ্যে দেখাতে হতো। সে কারণেই শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকেই এক দফা ঘোষণা এবং অসহযোগ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
১ দফা

১ দফা

এদিকে আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়লেও সেদিন সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দেওয়া হয়। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিচার হবে।’

তবে ওই আহ্বানে আন্দোলনকারীরা সাড়া দেননি। সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে থাকে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির পরে বলেন, আগস্টের শুরু থেকেই এক দফা দাবির বিষয়ে আলোচনা চলছিল। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারের কর্মসূচিতেও তাদের সংগঠনের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা।

একদিকে যেমন ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনতার বিশাল সমাবেশ, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সেদিনও প্রাণহানির খবর আসে বিভিন্ন এলাকা থেকে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকেই সরকার পতনের এক দফা দাবির ঘোষণা ২০২৪ সালের আন্দোলনে নতুন মোড় এনে দেয়। ওই ঘোষণার পর আন্দোলন আরও সংগঠিত রূপ নেয়। 





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy