প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ এএম (ভিজিট : ৭)

X
ছবি : প্রতিনিধি
সংরক্ষিত বনায়ন এখন অরক্ষিত হয়ে গেছে। গলাচিপার সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট খালে বাঁধ দিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে চলছে অবৈধ মাছ শিকার।
এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এবং জীববৈচিত্র্য। প্রতিবছর অবৈধ মাছ শিকারিরা বন বিভাগের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনায়নের মধ্যে প্রবাহিত খালগুলোতে যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে বলে জানায় স্থানীয়রা।
তবে মাছ শিকারের কথা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত কোনো খালে মাছ শিকারের বৈধ অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী।
এ বিষয়ে সংরক্ষিত বনায়নের চরকারফার মধ্যস্বত্বভোগী মোশারেফ প্যাদা বলেন, প্রতিবছরই এ বন বিট দেওয়া হয়। এ বছরও একইভাবে ফরেস্ট অফিস আর রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই খালের বিট নেওয়া হয়েছে। যারা খালের বিট নেয় তারাই মাছ ধরে। আবার কেউ কেউ বিট বিক্রি করেও দেয়। তবে কোনো অফিস বা রাজনৈতিক নেতাদের কত টাকা দেওয়া হয়েছে তা পরে বলবেন বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সংরক্ষিত বনের ভেতর প্রবেশ করা মানেই বন ও বনের প্রকৃতিকে ধ্বংস করা। বিভিন্ন সময় সরেজমিন কথা বলে আমরা দেখেছি, তারা এই খালগুলোতে শুধু মাছ ধরে না, বিষও প্রয়োগ করে। এতে শুধু মাছ নয়, খালের ছোট-বড় সব জলজ প্রাণী ও প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠিক যেমনটা আমরা সুন্দরবনের ভেতরও দেখতে পাই। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বনায়নের খাল বিট দেইনি। যারা খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।