প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৮ পিএম (ভিজিট : ১৭)

X
সড়কে জব্দকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন
গাজীপুরের গাছা থানার পাশের একটি সড়কে দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন ফেলে রাখার কারণে এলাকায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়কের একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আশপাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাছা থানার সংলগ্ন একটি সুয়েটার কারখানার সামনে সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। ফলে সড়কটি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কর্মস্থলগামী মানুষ, ব্যক্তিগত যানবাহন এবং পণ্যবাহী ট্রাককে এই পথে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কের এ অবস্থা শুধু যানজটই সৃষ্টি করছে না, বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ক্যাপটেক সুয়েটার লিমিটেডে কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, সেখানে প্রায় ৫ শত কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন। তাদের আশঙ্কা যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে তবে তারা নিরাপদে বের হতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এলাকাবাসী আরও জানান, কোনো অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ফায়ার সার্ভিস কিংবা অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে চরম বাধার মুখে পড়তে পারে। এতে ওই এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি জব্দকৃত যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনি অবহিত করছেন বলে জানান। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বরং নতুন করে জব্দ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত আরও যানবাহন একই স্থানে এনে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী, পথচারী এবং দ্রুত সড়কটি দখলমুক্ত করে যান চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হলে জনদুর্ভোগ কমবে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।