পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে চাল, শুকনো খাবার, ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা বিতরণ করেন বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদি হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ফখরুল আলম, থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, সাবেক পৌর মেয়র ও স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম ফরিদ, থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির তালুকদার এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হাসান। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন এমপি বলেন, “নেছারাবাদ উপজেলা দীর্ঘ ১৮ বছর উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ অঞ্চলের উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছি।
এরই ধারাবাহিকতায় নেছারাবাদের সন্ধ্যা নদীর ওপর মরহুম পীর সাহেব নেছার উদ্দিনের নামে একটি সেতু, কাউখালীর আমড়াজুরি সেতু এবং ভান্ডারিয়ার চরকাখালী এলাকায় কচা নদীর ওপর আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।” তিনি এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল, শুকনো খাবার ও ঢেউটিনের পাশাপাশি মোট ৪ লাখ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। একই অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও ইভেন্টে কৃতিত্ব অর্জনকারী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া গ্রাম পুলিশের সদস্যদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে তাদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীরা সরকারের এ মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে নেছারাবাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।