
X
ছবি : প্রতিনিধি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে শাখা ছাত্রদল। একই সময়ে জকসুর নেতারাও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এদিন সকাল থেকে আইডি কার্ড যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তা শিথিল হওয়ায় বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ ওঠে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।
এর আগে একই স্থান ও একই সময়ে তিনটি সংগঠনের পৃথক কর্মসূচি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্রধারীদেরই কেবল ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পরিচয়পত্র না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বাইরে থেকে ফিরে যেতে দেখা যায়।
তবে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিচয়পত্র যাচাই কার্যক্রম শিথিল হয়ে পড়ে। এরপর অনেকেই পরিচয়পত্র ছাড়াই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন কয়েকজন ব্যক্তি এবং পরিচয়পত্রবিহীন কিছু ব্যক্তিরও ক্যাম্পাসে প্রবেশের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রক্টরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন জকসুর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ না দেয়। তারা বলেন, ক্যাম্পাসে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর কিংবা স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। শিবিরের সন্ত্রাস ও মববাজির বিরুদ্ধে আমাদের বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।”
জকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আজ আমাদের দুটি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি রয়েছে। জকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, জকসু নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। হামলা করে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দমিয়ে রাখা যাবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রক্টোরিয়াল টিম সকাল থেকেেই কাজ করছে। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও রয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রক্টোরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। তবে মঙ্গলবারের সংঘাতের পর আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।