প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম (ভিজিট : ১৪)

X
অভিযুক্ত শাহ আলম খলিফা
গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নে সাবেক এক নারী সেনাসদস্য (২৮) কে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহ আলম খলিফা (৫০) উপজেলার ১নং পিরুজালী ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী নজরুল ইসলাম (৩৪) বাদী হয়ে নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে এবং পরবর্তীতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২ আগস্ট থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। জয়দেবপুর থানায় মামলা নং-০৬।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফা ভুক্তভোগী সাবেক নারী সেনাসদস্যকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব ও অশালীন কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে গত ৩১ জুলাই বিকেলে ভুক্তভোগী তার নামে থাকা জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একজন আমিন নিয়ে জমি পরিমাপ করতে যান। এ সময় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফা ৫-৬ জন অজ্ঞাত সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে জমি পরিমাপে বাধা দেন। একপর্যায়ে তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীকে মারধর করে আহত করে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ফোনটি ফেরত চাইলে তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে বিবস্ত্র করা হয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে স্বজনরা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী মামলা হওয়ার চার দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিকে গ্রেফতার করতে না পারায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটছে। তাই দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।