প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম (ভিজিট : ৩৭)

X
সংগৃহীত ছবি
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী আব্দুস সামাদ জীবিত অবস্থায় নিজের ‘চল্লিশা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) নিজ বাড়িতে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়ে খাবার গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি কৌতূহল ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, কারণ মৃত্যুর পর প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে জীবদ্দশাতেই এমন আয়োজন বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আব্দুস সামাদ ওই গ্রামের মৃত শুকর আলীর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা দানেছ আলী জানান, আব্দুস সামাদের সংসারে তিন মেয়ে ও চার ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেদের কেউ আলাদা সংসার করছেন, আবার কেউ পড়াশোনা করছেন। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজের সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে তার মনে প্রশ্ন জাগে, মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা চল্লিশার আয়োজন যদি না করে। সেই ভাবনা থেকেই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জীবিত অবস্থায় নিজেই চল্লিশার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া লালচাঁন মিয়া বলেন, আব্দুস সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারের সবাই এ আয়োজনের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
মেয়ে সাজেদাও জানান, বাবার মনের সংশয় দূর করতেই পরিবারের সদস্যরা এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
আব্দুস সামাদ বলেন, বয়সের ভারে আমি এখন শারীরিকভাবে দুর্বল। নামাজ-ইবাদত ছাড়া তেমন কোনো কাজ করতে পারি না। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠানের জন্য তিনি প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি খাসি ক্রয় করা হয়েছিল বলে জানান।