
X
জামালপুরে মানববন্ধন
বাংলা নিউজ ও একাত্তর টিভির সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জামালপুর প্রেসক্লাব।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে নিহত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, তিন বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলার কোনো কুলকিনারা হচ্ছে না। বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা মানবেতর অবস্থায় আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মামলার শুরু থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে টালবাহানা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এআইজি মুখলেছুর রহমান পান্না এবং এএসপি রেদুয়ান রনি যাদের সঙ্গে মামলার আসামিদের আত্মীয়তার অভিযোগ রয়েছে,তারা তদন্ত প্রভাবিত করেছেন।
মনিরা বেগম বলেন, প্রথমে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে নাদিমের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে গলির ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয়। কিন্তু সিআইডির তদন্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখে প্রকৃত খুনিদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে র্যাব তদন্ত করে। তার অভিযোগ, র্যাবের তদন্তেও সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি গোলাম কিবরিয়া সুমনসহ দুজনকে বাদ দেওয়া হয় এবং মামলার ধারাও কমিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একই ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে তদন্ত করে আমরা সঠিক বিচার পাব না। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে তাদের ফাঁসি দিতে হবে।’
মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও দৈনিক নয়া দিগন্তের বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি মোজাহিদ বাবু বলেন, প্রত্যেক তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তাই তার সাক্ষ্য নিয়েছেন। কিন্তু চার্জশিটে তার সাক্ষ্যের সঠিক বিবরণ আসেনি।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, তিন বছরেও সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হলেও প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, আসামিদের স্বজন সাবেক এআইজি মুখলেছুর রহমান পান্না ও এএসপি রেদুয়ান রনির প্রভাবের কারণে ‘ফরমায়েশি চার্জশিট’ দেওয়া হয়েছে। তারা এ ধরনের চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বক্তারা সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল আলম বাবু চেয়ারম্যান, তার ছেলে উপজেলা ছাত্র লীগের যুগ্ম আহবায়ক রিফাতসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম, তার বাবা হাজী মো. আব্দুল করিম, সাংবাদিক বজলুর রহমান, সাজ্জাদ আনসারী, কাফি পারভেজ, শওকত জামান, জুলফিকার জাহিদ হাবিব, মোজাহিদ বাবু, জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবুসহ সাংবাদিক নেতারা।
মানববন্ধনে জামালপুর প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জের পাটহাটি এলাকায় হামলার শিকার হন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিক নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে তৎকালীন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবু এবং তার ছেলে উপজেলা ছাত্র লীগের যুগ্ম আহবায়ক ফাহিম ফয়সাল রিফাতসহ ২২ জনের নামে এবং ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে।
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক নাদিম হত্যা মামলায় জড়িত সকলকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন এবং হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।