প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম (ভিজিট : ১২)

X
ছবি: প্রতিনিধি
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) কলকাতার কাছে উত্তর ২৪ পরগনায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়ে হামলা চালিয়েছে। তার অভিযোগ, গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে ছোড়া ইট-পাথরের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হতে পারতেন, এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও ছিল।
তবে এ ঘটনায় নিজেদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর গাড়ি ঘিরে ফেলেন, গাড়িতে কাদা মাখিয়ে দেন এবং জুতা ও পানির বোতল ছোড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘চোর ভাগাও’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের পেছনে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
পরে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ইট-পাথর গাড়ির জানালায় আঘাত না করলে তিনি গুরুতর আহত বা নিহত হতে পারতেন।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনে বাইরে থেকে আসা দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে পাথরের আঘাতে আমার মাথা ফেটে যেতে পারত। আমি মারা যেতে পারতাম। এমন হামলার মুখে আমি আগে কখনও পড়িনি। আমাদের নিরাপত্তায় পুলিশ কিছুই করেনি। তারা শুধু বিজেপিকে নিরাপত্তা দেয়।’
মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভা সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) পুলিশকে ব্যবহার করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য দলীয় কর্মীদের কোনও ধরনের সহিংসতা সহ্য করবেন না বলে বরাবরই বলে আসছেন। তিনি সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ এমন সময় উঠল, যখন কয়েক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় পরাজয়ের পর তার ভাতিজা ও তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল।