
X
ছবি: প্রতিনিধি
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভাগ্যন্নোয়নের জন্য বিএনপি সরকার প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। একেক একেক পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাস্তবায়ন হলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে দেশ এগিয়ে যাবে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল সে কাজকে বাধাগ্রস্থ করতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। যেভাবে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধীতা করেছিল। ৮৬ সালে এ গুপ্ত বাহিনী চট্টগ্রামের মাটিতে দাড়িয়ে বলেছিল যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান হবে। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে তারাই আরেক সৈরাচারের অধীনে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছে। তারাই জাতির কাছে জাতীয় বেঈমান হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।
একইভাবে ৯৬ সালে আবারো দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করে তারা আবার সৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল। গণভোটের বিপক্ষে তারা অবস্থান করেছিল।আজকে তারা আবারো সে পুরোনো রুপে ফিরে এসেছে মানুষকে মিথ্যা বলে বিভ্রান্ত করার চেস্টা করছে। সরকারের উন্নয়নের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী দল যারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে, কথা বলার স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে গুপ্তবাহিনীর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
তিনি বলেন, দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সময় নাই। এখন সময় দেশ গড়ার, জাতির ভাগ্য গড়ার। দেশকে সামনে দিকে এগিয়ে নিতে দেশের বিশ কোটি মানুষের চল্লিশ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রুপান্তরিত করতে হবে।
রোববার(৯ আগস্ট) হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির হাটহাজারী উপজেলার আয়োজনে
বন্যা দুর্গতদের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচীর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে বহু দেশ আছে যারা আমাদের দেশের সময়ে স্বাধীন হয়েছিল তারা আজ বহুদুর এগিয়ে গেছে। কিন্তু বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়েও আমরা সে জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কোন বাধা মানবনা। আমরা চাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে বারো মিনিটের বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ অন্যান্য জায়গা থেকে তুলনামূলক বেশি ব্যবসা বাণিজ্যর সাথে জড়িত। দেশি বিদেশী বিনিয়োগের বহু কল কারখানা এখানে আছে। দেশি বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে যদি আরো কল কারখানা গড়ে উঠে তাহলে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনের যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা আজ একে একে বাস্তবায়ন করছে। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করছে। সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে তের লক্ষ প্রান্তিক কৃষকদের দশ হাজার টাকার সুদসহ ঋণ মওকুফ করেছে। স্মার্ট কৃষি কার্ডের ব্যবস্থা করছে। গ্রাামীণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধিতে ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালকে একশ শয্যায় উন্নিত করা হচ্ছে।
প্রাথমিকের এক কোটি বিশ লক্ষ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্য স্কুল ড্রেস প্রদানের ঘোষণা করছে সরকার। বক্তব্যর আগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ গৃহহীন পরিবার ও শারীরিক প্রতিবন্ধিদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জেয়ারত করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর নাছির উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিভিন্ন উপজেলার সংসদ সদস্য, স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী।