প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩০ পিএম (ভিজিট : ১)

X
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পতন ঘটেছে। দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দর ওঠার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কিছুটা কমেছে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা দেশটির মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত অর্থনৈতিক উপাত্তের দিকে নজর রাখায় বাজারে এই দরপতন হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনের শুরুতে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৩৪ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। গত ৫ জুনের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম। তবে পরে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৬৫ ডলারে নেমে আসে। এ সময় মার্কিন সোনার ফিউচার ৪ হাজার ৪২৪ দশমিক ৯০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল।
অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা কৌশলবিদ আহমদ আসিরির মতে, ধাতব বাজারে বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব এবং নতুন করে অর্থপ্রবাহ বাড়ায় লেনদেনের শুরুতে সোনার দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে।
তবে এখন বাজারের নজর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। বুধবার প্রকাশিত হবে জুলাই মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এবং বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই)। এসব তথ্য ফেডের পরবর্তী সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জুলাইয়ের দুর্বল কর্মসংস্থান উপাত্তের পর আগামী মাসে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে এমন ধারণা থেকে বাজার ইতোমধ্যে সরে এসেছে। অ-সুদবাহী সম্পদ হওয়ায় সুদের হার কম থাকলে বা অপরিবর্তিত থাকলে সাধারণত সোনার আকর্ষণ বাড়ে।
ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ না বাড়িয়ে অর্থনীতি শীতল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা আরও কমতে পারে। এতে মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা সোনার দাম বাড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইরানের দেওয়া শর্তের বিপরীতে যুদ্ধ ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাল্টা দাবি জানিয়েছেন। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ১.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১ হাজার ৭৪৪ দশমিক ২৫ ডলার। আর প্যালাডিয়ামের দাম ০.৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৩ দশমিক ০৯ ডলারে।