
X
ছবি: প্রতিনিধি
নরসিংদীর মনোহরদীতে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপজেলার উন্নয়ন, সম্ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন নবাগত ইউএনও মাহমুদুল হাসান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব মিয়া, মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ, সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ও ইসমাইল হোসাইন খান, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম বাদল, সাধারণ সম্পাদক সুজন বর্মণ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাকি বিল্লাহ, আসাদুজ্জামান নূর, কামরুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান সোহেল, মোবারক হোসেন, আবদুস কুদ্দুছসহ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
সভায় মনোহরদী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনও মাহামুদুল হাসানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা মনোহরদীর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক সংস্কার, যানজট নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন তারা।
নবাগত ইউএনও মাহামুদুল হাসান বলেন, “উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও গণমাধ্যম পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করলে জনগণের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং তার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের গঠনমূলক পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে মনোহরদীর উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি।
উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ইউএনও বলেন, উপজেলা পরিষদ এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন, বিভিন্ন সড়কে বৃক্ষরোপণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কারসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ প্রত্যাশা করেন তিনি।
এসময় মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ বিদায়ী ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহানের কর্মকাল স্মরণ করে নবাগত ইউএনওকে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, “বিদায়ী ইউএনও এম এ মুহাইমিন আল জিহান মনোহরদীতে যখন যোগদান করেছিলেন, তখন তাঁর মুখে ছিল প্রাণবন্ত হাসি। আর বিদায়ের দিনে তিনি মনোহরদীর মানুষের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের আবেগে সিক্ত হয়ে চোখের জলে বিদায় নিয়েছেন। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মানুষের কতটা আপন হয়ে উঠতে পারেন, তাঁর বিদায় আমাদের সেটিই দেখিয়েছে। আমরা চাই, আপনিও মনোহরদীতে এমন কিছু ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রেখে যান, যাতে আপনার বিদায়ের দিনটিও মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনায় স্মরণীয় হয়ে থাকে।”
প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “আপনি নতুন দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন, তাই আপনার সামনে যেমন অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে কাজ করার অসংখ্য সুযোগ। মনোহরদীর মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আপনি সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সাংবাদিকরা প্রশাসনের প্রতিপক্ষ নন; বরং জনগণের কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকরা প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।
প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসাইন খান বলেন আমরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি উপজেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রশাসনকে গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা করতে চাই।”
মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম বাদল বলেন প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন বর্মন নবাগত ইউএনওর সাফল্য কামনা করে বলেন, “মনোহরদীর মানুষ যেন আপনাকে একজন দক্ষ, জনবান্ধব ও মানবিক ইউএনও হিসেবে মনে রাখে—আমরা সেই প্রত্যাশাই করি। আপনার ভালো উদ্যোগে সাংবাদিকরা পাশে থাকবে, আর কোনো সমস্যা বা অনিয়ম চোখে পড়লে তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরবে। প্রশাসন ও গণমাধ্যমের এই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতাই মনোহরদীকে আরও সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত উপজেলায় পরিণত করতে পারে।