
X
সংগৃহীত ছবি
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সেনা, বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরাক সরকার।
বুধবার (১২ আগস্ট) দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকে আইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটের সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব বিদেশি সেনা দেশটি ত্যাগ করবে। এ সময়সীমা চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হবে, কারণ ওই দিন থেকে দেশটিতে আর কোনো বিদেশি সেনার উপস্থিতি থাকবে না।
ইরাক সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদির বৈঠকের ভিত্তিতেই সেনা প্রত্যাহারের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরকালে দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদারে মনোযোগ দেবে।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে সাদ্দাম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পর মার্কিন সেনাদের ইরাক ছাড়ার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর উত্থান ঘটায় দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখা হয় এবং আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক এবং জোটভুক্ত দেশগুলো আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে ইরাকে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মোকাবিলায় ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সক্ষম।
তবে বর্তমানে ইরাকে কতজন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
সূত্র: আল-জাজিরা