
X
সংগৃহীত ছবি
ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে চলছে এ বিক্ষোভ।
সরকার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি। ফলে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ২০তম দিনে গড়িয়েছে। এদিনও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকার কথা জানিয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
মূলত নিয়োগ পরীক্ষায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিতর্কিত কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের দাবিতে আন্দোলন করছে জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে চলমান এ আন্দোলনে ঝাড়খণ্ডের বাইরে থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন অথবা সিবিআইয়ের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে বুধবার (১২ আগস্ট) ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সিবিআই তদন্তের দাবি পূরণ না হলে তিনি অনশন শুরু করবেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের আবগারি বিভাগে কনস্টেবল নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার সময় নিহত ১৯ জনের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
এই ইস্যুতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ১ হাজার ২০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংগঠনটির নেতারা। তাদের দাবি, তদন্তকারী দলের সদস্যদের বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে।
বিজেপি অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সরকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। বিক্ষোভে বাধা দিতে বিজেপি রাজ্যের বাইরে থেকে কর্মী এনেছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
এর আগে গত সোমবার বিধানসভা অভিমুখে বিক্ষোভকারীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তাকর্মীরা লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেন। পরে পুলিশের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেয় বিজেপি।
এদিকে অনশনে থাকা জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি রাঁচির সিভিল সার্জনের কাছে আন্দোলনস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন। মাহাতো বলেছেন, তার ‘আত্মা’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গেই রয়েছে।
অনশনে থাকা আরও চার শিক্ষার্থীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত সরকার ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছয় দফা আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনায় সংকটের কোনও সমাধান হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বারবার বলেছেন, তার সরকার নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হবে।
একই সঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য বিজেপিকে অভিযুক্ত করেছেন তিনি।