যুক্তরাজ্য এখন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ : নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ নামে অভিহিত করেছেন। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র

2026-08-15T16:03:21+00:00
2026-08-15T16:03:21+00:00
শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬ ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬
   
যুক্তরাজ্য এখন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ : নেতানিয়াহু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম   (ভিজিট : ২)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ নামে অভিহিত করেছেন। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র যুক্তরাজ্য সম্পর্কে তার এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রচারিত ইসরাইলি পডকাস্ট ‘মেলেখ ব্লিটজার হাইম’-এ ইসরাইলকে নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রতিবেদন ও কাভারেজের সমালোচনা করার সময় নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি ব্রিটিশ লেখক র‍্যান্ডলফ চার্চিলের উদাহরণ টানেন। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইলের পক্ষে তার ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের প্রশংসা করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। এরপরই ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, বর্তমান ব্রিটেনে এ ধরনের সংবাদ পাওয়া কঠিন। তার ভাষায়, দেশটির নাম এখন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বললেও ভুল হবে না।

পডকাস্টে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ২০২২ সালের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। সে সময় ভ্যান্স সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্রধারী একটি ‘ইসলামপন্থী দেশ’ হিসেবে যুক্তরাজ্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন।

নেতানিয়াহু বলেন, কেউ একবার মন্তব্য করেছিলেন যে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র হতে পারে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। এরপর তিনি বলেন, ‘ইরানে এমন আরেকটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র তৈরি হতে দেওয়া হবে না।’

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে ব্রিটিশ ও আইরিশ ইহুদি সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর প্রগ্রেসিভ জুডাইজম’।

সংগঠনটির সহ-প্রধান রাবাই চার্লি বাগিনস্কি ও রাবাই জশ লেভ বলেন, যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষ, মুসলিমবিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজনের কারণে মানুষের মধ্যে যখন প্রকৃত ভয় তৈরি হচ্ছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।

তাদের বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তিনি আমাদের হয়ে কথা বলেন না।’

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সাবেক ডাউনিং স্ট্রিট চিফ অব স্টাফ গ্যাভিন বারওয়েলও নেতানিয়াহুর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি একে সরাসরি ‘ইসলামবিদ্বেষ’ বলে অভিহিত করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারওয়েল লেখেন, আশা করা যায়, এবার সবাই সেই ভান করা বন্ধ করবে যে নেতানিয়াহু ব্রিটেনের কোনো বন্ধু।

ইসরাইল-যুক্তরাজ্য সম্পর্কে বাড়ছে টানাপোড়েন

ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টি সরকার গঠনের পর দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সাবেক লেবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময়ে যুক্তরাজ্য ইসরাইলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত করে। একই সঙ্গে দেশটি ইসরাইলে কিছু ধরনের অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্সও স্থগিত করেছিল।

ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যও ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রিসভার দুই সদস্য ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

গত বছর ফ্রান্স ও কানাডাসহ কয়েকটি মিত্র দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে লেবার পার্টির প্রথম দিকের অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে দলটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক দেরি করেছে।

বার্নহ্যাম বলেন, গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপও বিবেচনা করা দরকার।

‘সম্পর্কে নতুন নিম্নস্তর’

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক রোদওয়ান আবুহারব মনে করেন, নেতানিয়াহুর মন্তব্য যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের সম্পর্কের ‘নতুন নিম্নস্তর’ প্রকাশ করছে।

তবে তার মতে, ইরান ইস্যুতে দুই দেশের নীতিগত অবস্থানের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য কিছু মিল রয়েছে।

আবুহারব বলেন, নেতানিয়াহু সম্ভবত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণেই এমন মন্তব্য করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তার দুর্বল ও বিভক্ত জোট সরকারকে আরও ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে থাকতে পারেন।

এমন এক সময়ে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য সামনে এলো, যখন গাজা যুদ্ধ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি, ইসরাইলি বসতি এবং অস্ত্র রপ্তানির মতো বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের মতপার্থক্য ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। ফলে তার এই বক্তব্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy