প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম (ভিজিট : ১)

X
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে কৌশল পরিবর্তন করছেন। সামরিক উত্তেজনা বা কূটনৈতিক দর-কষাকষির পরিবর্তে তিনি এখন মূলত নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির ওপর ভরসা করছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বারবার আলোচনা হলেও তা শেষ পর্যন্ত আটকে গেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য মাশুল দাবি করা এবং যুদ্ধের ক্ষতির জন্য মার্কিন ক্ষতিপূরণ চাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল রূপ নেয়। এর জবাবে ওয়াশিংটনও বিগত দশকগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হওয়া ক্ষতির জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলে ধরে। ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান আলোচনাকে থমকে দিয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনের সুবিধা বাড়ায় আগামী দুই বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অস্ত্রাগারে প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। ইউক্রেনকে সহায়তার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে গিয়ে ওয়াশিংটন এখন সীমিত বিকল্পের মুখোমুখি। তাই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়াতে চাচ্ছে।
এ বাস্তবতায় সামরিক তৎপরতা কমিয়ে হোয়াইট হাউস ইরানের ওপর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি ও দেশটির বন্দরগুলোর ওপর চাপ বজায় রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটনের মতে, এতে ইরানের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, জ্বালানি রাজস্ব হ্রাস ও কৃষিখাত সংকটে পড়ছে।
তবে আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দর ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। উভয় পক্ষই যখন ছাড় দিতে নারাজ, তখন ওয়াশিংটনের জন্য ‘সময়’ এবং ‘ধৈর্যই’ এখন মূল হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।