প্রকাশ: রোববার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৫০ পিএম আপডেট: ৩০.০১.২০২২ ৩:৫২ পিএম (ভিজিট : ৪০৪)

X
মানুষের মধ্যে প্রচলিত হাজার হাজার বছরের পুরনো অনেক কল্পকাহিনীর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ইউনিকর্ন। ফ্রান্সের লাসকক্স গুহায় ১৫ হাজার খ্রিস্ট পূর্বাব্দের ইউনিকর্নের চিত্র পাওয়া যায়। রূপকথার সেই ইউনিকর্নের কথা আমরা অনেকেই শুনেছি, ছবিও হয়তো দেখেছি। কিন্তু বাস্তবে ইউনিকর্ণের দেখা না মিললেও এক শিংওয়ালা প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে সমুদ্রে। এদের নাম নারহোয়েল।
নারহোয়েল এক প্রজাতির তিমি এবং এরা স্তন্যপায়ী প্রাণী। উত্তর মহাসাগরে এক সামুদ্রিক ইউনিকর্নের বসবাস এদের। ২০ ফুট লম্বা এবং দেড় টন ওজনের এক দৈত্যাকার তিমি পরিবারের এক দুষ্প্রাপ্য সদস্য তারা। এরা মূলত শিঙয়ের জন্যই বেশি বিখ্যাত হয়ে থাকে। এটি মূলত নারহোয়েলের একটি ক্যানাইন দাঁত। যা বর্ধিত হয়ে শিং-এর আকৃতি ধারণ করেছে। দাঁতটি উপরের চোয়াল থেকে সোজা সামনের দিকে বেড়ে ওঠে। ড্রিল মেশিনের সূচের মত পেঁচানো লম্বা এই অঙ্গটি আসলে নারহোয়েলের দাঁত, শিং নয়। শুধুমাত্র পুরুষ নারহোয়েলের এই দাঁত গজায়। কিছু কিছু নারী নারহোয়েলেরও এই দাঁত দেখা যায় ক্ষেত্রবিশেষে। শুধুমাত্র এই দাঁতটিই লম্বায় ৯ ফুট পর্যন্ত হয় এবং ওজন হয় ১০ কেজি। কি কারণে নারহোয়েলদের এই বিশেষ দাঁত গজায় তার কারণ বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। আর্কটিক মহাসাগরের বরফঢাকা পানিতে বরফের আস্তরণ ভাঙ্গতেও প্রয়োজন হয় এই দাঁতের। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করে নারহোয়েলের দাঁত। এই দাঁতে স্নায়ু রয়েছে এবং ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে যার মধ্য দিয়ে সমুদ্রের পানি ঢুকতে পারে। এর ফলে পানির সামান্যতম পরিবর্তনও যেমন পানির তাপমাত্রা বা লবনাক্ততার পরিবর্তনও বুঝতে পারে নারহোয়েল। তবে ধারণা করা হয় নারী নারহোয়েলকে আকর্ষণ এবং মারামারি বা নিজেদের রক্ষা করতেই এই দাঁতের দরকার হয়।
নারহোয়েলের রং দেখেই বয়স বলে দেয়া সম্ভব। শিশু নারহোয়েলের রং নীল-ধূসর উঠতি বয়সীরা কালচে নীল প্রাপ্তবয়স্করা ধূসর এবং বুড়োরা প্রায় শুভ্র। ডলফিনের মতোই এরা শিকার ধরতে ইকোলোকেশন বা সোনার ব্যবহার করে থাকে। প্রথমে এরা ক্লিক ক্লিক আওয়াজ তুলে সামনে এগিয়ে যায়। প্রতিফলিত শব্দের ধরন শুনেই এরা শিকারের অবস্থান, গতিবিধি বুঝতে পারে। এদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে স্কুইড কাটলফিশ, চিংড়ি ও ছোট ছোট সামুদ্রিক মাছ। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এদের অনেক বিচরণস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে রূপকথার ইউনিকর্ন সদৃশ এই প্রাণীদের স্থান এখন বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের তালিকায়।
আর্কটিক মহাসাগরের গ্রিনল্যান্ড, কানাডা আর রাশিয়া অঞ্চলে দেখা যায় এদের। আকারে একটি প্রাপ্তবয়স্ক নারহোয়েল ১৩ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত হতে পারে আর ওজন হয় ৮০০-১৬০০ কেজি।