প্রকাশ: রোববার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৬:০৪ পিএম আপডেট: ১৩.০২.২০২২ ৬:২৭ পিএম (ভিজিট : ২৮৯)

X
কাঠামোর দিক দিয়ে উচ্চতম সেতু হল যেসব সেতুর পিলারের উচ্চতা ডেকের উচ্চতার সমান বা তার বেশি। আর ডেকের দিক দিয়ের উচ্চতম সেতু হল যেসব সেতুর ডেকের উচ্চতা কাঠামো বা পিলারের উচ্চতার থেকে অনেক বেশি। এসব সেতু এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড় পার করার জন্য নির্মিত হয়, পাহাড় কেটেই। এসব সেতু পিলার পাহাড়ের উপরেই থাকে আর দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চল বা গিরিপথে কোন পিলার থাকেনা।
দৃশ্যমান হলো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলসেতু যা ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে অবস্থিত। এটির নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। নির্মাণাধীন সেতুটির কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন দেশটির রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেতুটি নদীর তলদেশ থেকে ৩৫৯ মিটার উচ্চতায় নির্মিত হচ্ছে যেটি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের চিনাব নদীর ওপর তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলসেতু। জম্মু-কাশ্মীরের রেইসি জেলায় ১ হাজার ৩১৫ মিটার দীর্ঘ চেনাব সেতু নির্মিতি এই সেতুটি হচ্ছে যা দিল্লির বিখ্যাত কুতুব মিনারের উচ্চতা ৭২ মিটার এবং প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের উচ্চতার (৩২৪ মিটার) চেয়েও ৩৫ মিটার বেশি উঁচু কাশ্মীরের এই সেতু। সেতুটিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৬৬ কিলোমিটার নকশা করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলে জম্মু থেকে বারমুল্লা যেতে সময় লাগবে সাড়ে ছয় ঘণ্টা। এখন একই জায়গায় যাতায়াতে সময় লাগছে ১৩ ঘণ্টা।
এছাড়া উধমাপুর-কাটরা (২৫ কিলোমিটার), বানিহাল-কাজিগুন্দ (১৮ কিলোমিটার) এবং কাজিগুন্দ-বারামুল্লা (১১৮ কিলোমিটার) সেকশনকে সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ১১১ কিলোমিটারের কাটরা-বানিহাল সেকশনের কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে সেতুটির কাটরা-বানিহাল সেকশনের ১৭৪ কিলোমিটার টানেলের মধ্যে ১২৬ কিলোমিটারের নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে। ২০০৮ সালে আবার নির্মাণকাজ শুরু করা হয় এবং সেতুটি চলতি বছরের ডিসেম্বরে এটি চালু করার কথা জানানো হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো ট্রেনযোগে ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে কাশ্মীর উপত্যকার যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
সেতুর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের কোঙ্কন রেলওয়ে করপোরেশন। এই সেতু স্টিল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। এতে মোট ২৫ হাজার টন ইস্পাত লাগবে। এই সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে নয় কোটি ২০ লাখ রুপি। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলসেতুটি চীনের গুইঝাউ প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের বেইপানজিয়াং নদীর ওপর নির্মিত। মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও যাতে সেতুটি ঠিক থাকতে পারে সেজন্য স্টিল সেতু তৈরি হচ্ছে। ট্রেন ও যাত্রীদের ওপর নজর রাখতে অনলাইন মনিটরিংয়ে ব্যবস্থা থাকবে সেতুতে। এছাড়া সেতুর সঙ্গে থাকবে ফুটপাথ ও সাইকেল চালানোর রাস্তা।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত ৮০ হাজার ৬৮ কোটি রুপির প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্যাকেজের অংশ হিসেবে কাশ্মীরের চিনাব নদীর ওপর বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতুটির কাজ নির্মাণযজ্ঞ চলছে।