প্রকাশ: সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২, ১:৫৯ পিএম (ভিজিট : ৪৭৮)

X
সাধারণ মাছের মতো ফুলকা, আঁশ এবং সাতটি পাখনার সঙ্গে এই প্রাণীর দেহে দেখা যায় একজোড়া হাতের মতো অঙ্গ। এ দুটি অঙ্গের সাহাঘ্যে সমুদ্রতলে চলাফেরা করে তারা। এজন্যই হয়তো নাম দেওয়া হয়েছে "পিংক হ্যান্ডফিশ"। সমুদ্রের তলদেশেই মূলত পিংক হ্যান্ডফিশ মাছের বিচরণ। পাখনার সাহায্যে পানিতে সাঁতার কাটে এরা। এমনটাই এতদিন জেনে এসেছেন বিশ্ববাসী। তবে এবার অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া রাজ্যে উপকূলের অদূরে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে এক প্রজাতির মাছকে।
বিরল প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব এই প্রথম নয় ২২ বছর আগে ১৯৯৯ সালে দেখা গিয়েছিল এই মাছেদের। পাখনার বদলে এদের রয়েছে মানুষের হাত সদৃশ পাখনা। এজন্য এর নামও পিংক হ্যান্ডফিশ। তবে গোলাপি ছাড়াও আরও কতেকটি রঙের হয় এই মাছগুলো। বিরল প্রজাতির এই পিংক হ্যান্ডফিশ এ পর্যন্ত মোট চার বার এই মাছের দেখা পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, তাসমান ফ্র্যাকচার মেরিন পার্ক একটি সুরক্ষিত এলাকা। এর আয়তন সুইজারল্যান্ডের সমান। এ মেরিন পার্কের ভূত্বকে দীর্ঘ এক ফাটল রয়েছে। আর সেখানে অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে। সেখানে চার হাজার মিটার গভীরেও পাওয়া যায় প্রাণের অস্তিত্ব।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্প্রতি সমুদ্রে গভীরে এক মেরিন পার্কে তাদের এক ক্যামেরায় মাছটি ধরা পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গলদা চিংড়ি বিরক্ত করার পর ১৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ মাছটি পাথরের তলা থেকে বেরিয়ে আসছে। আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল মাছটি অগভীর পানিতে বসবাস করে। কিন্তু এখন দেখা গেল এটি গভীর সমুদ্রেও বিচরণ করে থাকে। তাসমানিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ৩৯০ ফুট গভীরে এর বাস। এই আবিষ্কার খুবই উত্তেজনাকর। যেহেতু অনেক বেশি জায়গা নিয়ে এই মাছটি ঘোরাফেরা করে, তাই পিংক হ্যান্ডফিশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আশঙ্কা ছিল তা কিছুটা কমেছে।
অন্যান্য মাছের যেমন পাখনা রয়েছে তেমন এ মাছের রয়েছে দুটি বড় মাপের হাত। পিংক হ্যান্ডফিশ হাতগুলো ব্যবহার করে ঘোরাফেরা করে। তারা সাঁতারও জানে। এদের চেহারা খানিকটা গম্ভীর ধরণের। দেখলে মনে হবে হয়তো কোনো মুরব্বি বাচ্চাদের কলাহল দেখে বিরক্ত হচ্ছেন। তেমন গম্ভীর ভঙ্গিতেই হেঁটে চলেন।
সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী নেভিল ব্যারেট বলেন, সামুদ্রিক জীব অনুসন্ধানে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এর মধ্য দিয়ে পিংক হ্যান্ডফিশের টিকে থাকার বিষয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। অতীতে যেমনটা ভাবা হতো, তার তুলনায় তাদের আবাসস্থল আরও অনেক বিস্তৃত। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণের দ্বীপ এলাকা তাসমানিয়া ও এর আশপাশে পিঙ্ক হ্যান্ডফিশসহ মোট ১৪ ধরনের হ্যান্ডফিশের অস্তিত্ব রয়েছে।