পিবিআই এসপির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় চার্জশীট

আদালত প্রতিবেদক

আইন-আদালত

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে এক নারী পুলিশ পরিদর্শকের করা

2022-03-07T15:20:46+00:00
2022-03-07T15:20:46+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পিবিআই এসপির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলায় চার্জশীট
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২, ৩:২০ পিএম   (ভিজিট : ২৮৯)
X


পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে এক নারী পুলিশ পরিদর্শকের করা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক জসিম উদ্দিন। 

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার বাদী নারী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তিনি ২০১৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান। পরের বছর ২০১৯ সালের মে মাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে যান মামলার আসামি মোক্তার হোসেন। তারা ছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তা মিশনে কর্মরত ছিলেন। মিশনে বাংলাদেশি পুলিশ সুপারদের মধ্যে কেবল বাদী ও আসামি ভিআইপি অ্যাকোমোডেশন ক্যাম্পে থাকতেন। মামলার বাদী ২০২০ সালের ৩০ জুন মিশন শেষে দেশে ফেরেন। আসামি মিশন শেষে দেশে ফেরেন ২০২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। বাদীর অভিযোগ, (মিশনে থাকাকালে) ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর আসামি তার আবাসিকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। দুদিনের মাথায় ২২ ডিসেম্বর ফের জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তাকে। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি তাকে ফুসলিয়ে, ভুল বুঝিয়ে, মুখে কালেমা পড়িয়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন মোক্তার। পাশাপাশি বাংলাদেশে ফিরে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার আশ্বাস দিয়ে তাকে ফের ধর্ষণ করেন। একইভাবে ২০২০ সালের ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন সুদানের খার্তুমের হোটেল শ্যামলোতে তাকে ধর্ষণ করেন মোক্তার।অভিযোগপত্র থেকে আরও জানা যায়, বাদীর অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাস্থল দেশের বাইরে হওয়ায় সরেজমিনে পরিদর্শন করা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। মিশনে সংগঠিত ধর্ষণের বিষয়ে একই সময়ে কর্মরত দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করা হলে কেউ ঘটনার বিষয়ে অবগত নন মর্মে জবানবন্দি দেন। এ বিষয়ে বাদীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, তিনি তাকে ধর্ষণের বিষয়ে কাউকে অবহিত করেননি এবং মিশন কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো অভিযোগও করেননি। তাছাড়া আসামি মোক্তারের পরিবার ঢাকায় সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছিল। এ অবস্থায় বাদীর সঙ্গে আসামির হোটেলের অবস্থান তার (ধর্ষণের) অভিযোগকে সমর্থন করে। আসামি ও বাদী দুইজনই বিবাহিত। আসামির প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে বাদী ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার স্বামীকে ডিভোর্স দেন। এরপর তিনি ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে আসামি মোক্তারের বাসায় গেলে তাকে নাজেহাল করা হয়। মামলার তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রকাশ পায় যে, আসামি মোক্তার হোসেন বাদীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করেন, যা ধর্ষণের শামিল। সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মামলার বাদীকে আসামি মোক্তারের ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মোক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০ এর ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১২ আগষ্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই নারী পুলিশ পরিদর্শক। শুনানি শেষে বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়টি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।











Loading...
Loading...


আইন-আদালত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy