প্রকাশ: বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ৬:১৯ পিএম (ভিজিট : ৩৭৮)

X
দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা পিরোজপুর। এ জেলার চারপাশ নদীবেষ্টিত। সরকারি নিবন্ধিত তথ্যে পিরোজপুর জেলায় নদী ও সাগরে মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা বহন করে প্রায় ২৮ হাজার জেলে। বর্তমানে শুরু হয়েছে শীত মৌসম। পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের নিকটে ও কচা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা শুঁটকি পল্লীতে এই মৌসমে ব্যস্ততা বাড়ে ঢেলা, ফ্যাপসা, ছুরি, লইট্যা, চাপিলা, কামোট/হাঙর সহ ৩৫ প্রজাতির মাছ শুঁটকি করণের কাজে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে শুঁটকি উৎপাদনের কাজ। এই পল্লীতে বিষমুক্ত শুঁটকি তৈরি হওয়ায় সুনাম ও চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে।
জানাযায়, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের আড়ত থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে এনে লবণ পানিতে ১ দিন ভিজিয়ে রাখেন। এরপর বাঁশের তৈরি মাচা এবং বেড়ায় মাছ শুকাতে দেন। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কাচা মাছ শুঁটকিতে পরিণত হয়। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন আড়তে পাইকারি বিক্রি হয়ে থাকে।
শুঁটকি পল্লীতে ১২ বছর ধরে কাজ করে আসছেন আবুল মিয়া। তিনি বলেন, আমাগো এখানে প্রায় দেড় যুগ ধরে এই শুঁটকি পল্লীতে তৈরি হচ্ছে ঢেলা, ফ্যাপসা, ছুরি, লইট্যা, চাপিলা সহ ৩৫ প্রজাতির মাছের শুঁটকি। এখানকার শুঁটকি বিষমুক্ত হওয়ায় এর চাহিদা দেশে তো রয়েছেই, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। তাছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আসে ব্যবসায়ীরা পাইকারী দরে কিনে নিয়ে যায়।
শ্রমিক বিল্লাল হোসেন বলেন, এই পল্লীতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। সারাদিন কাজ করলে ৫ থেকে ৬শো টাকা মজুরী পাই। তা দিয়ে আমাদের সংসার চলছে। এখানে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করে।
শুটকি ব্যবসায়ী মোঃ মহাসিন বলেন, এ খাতে রয়েছে নানা সমস্যা। আর সরকারি কোনো সহযোগিতা তো পাওয়ায়ই যায় না। অন্যের কাছ থেকে জমি ভাড়া করে আমাদের এই ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। আমরা চাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি শুঁটকি পল্লীর জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল বারী বলেন, পিরোজপুরের পাড়েরহাট ও চিথিলিয়া গ্রামে শীত মৌসমে ৯-১০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদন হয়ে থাকে, যার মূল্য প্রায় কোটি টাকার মত। এই পল্লীতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। তিনি আরো বলেন, শুটকি ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। তাদের সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানানো হবে।
-বাবু/এ.এস